রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতর, পুরসভা এবং সরকারি সংস্থায় বেসরকারি এজেন্সির চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এবার নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল নবান্ন। অর্থ দফতরের অনুমতি ছাড়া বা সময়মতো নতুন টেন্ডার না ডেকে বারবার পুরনো এজেন্সির চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর চেনা প্রবণতা বন্ধ করতে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই ধরনের কাজ সরকারি আর্থিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে এবং স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। 

নবান্নের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও সংস্থার সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত তিন মাস আগে থেকেই নতুন করে টেন্ডার ডাকার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। শুধু তাই নয়, প্রতিটি দফতরের প্রধানকে প্রতি মাসে সংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে তার তালিকা অর্থ দফতরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্নের উদ্দেশ্য, কোনও পরিষেবায় যাতে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে আচমকা প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত না হয় এবং একই সঙ্গে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নতুন যোগ্য সংস্থা নির্বাচিত করা যায়। 

প্রশাসনিক মহলের মতে, এই বিজ্ঞপ্তির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বিদ্যমান কোনও চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি বা নবীকরণের প্রস্তাব কোনও অবস্থাতেই আর গ্রহণ করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে নবান্ন। সময়মতো টেন্ডার না ডাকার কোনও অজুহাতও নবান্ন আর গ্রাহ্য করবে না। অর্থাৎ, চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার পরে পুরনো সংস্থাকেই বাড়তি সময় দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার যে প্রচলিত রীতি দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছিল, তা কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হল। 

মুখ্যসচিবের নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো কিংবা নতুন টেন্ডার আহ্বানে অযথা বিলম্বকে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ ধরনের গাফিলতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নির্দেশ কেবল সচিবালয়ের বিভিন্ন দফতরের জন্য নয়। রাজ্যের সব সরকারি দফতর, পুরসভা, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, বিধিবদ্ধ সংস্থা এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও তা সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। সংশ্লিষ্ট দফতর বা সংস্থার প্রধানকেই নিশ্চিত করতে হবে যে নির্দেশ কঠোরভাবে মানা হচ্ছে। নির্দেশ লঙ্ঘিত হলে তার দায়ও সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানের উপর বর্তাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কড়াকড়ির জেরে সরকারি স্তরে কাজের গতি ও স্বচ্ছতা কতটা ফেরে, এখন সেটাই দেখার।