ছুটির দিনে দফতর পুরোপুরি ফাঁকা করা যাবে না। পালা করে হলেও ছুটির দিনে দিতে হবে হাজিরা। এবার রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জারি হল এমনই এক কড়া নির্দেশিকা। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের যাবতীয় প্রশাসনিক কাজ নির্বিঘ্নে চালাতে শনিবার ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনগুলিতেও আধিকারিকদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্রাঞ্চ বা ডিরেক্টরের নির্দেশ মেনে ছুটির দিনেও আধিকারিকদের অফিসে আসতে হবে। ছুটির দিনে কাজের প্রয়োজন পড়লে আধিকারিকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেবে সংশ্লিষ্ট ব্রাঞ্চ। এ ছাড়া, ওই দিন কতজন কর্মী উপস্থিত থাকবেন, তার তালিকাও সংশ্লিষ্ট শাখার প্রধানকে ছুটির আগের দিন বিকেল ৪টের মধ্যে জি-এ শাখায় পাঠাতে হবে। প্রয়োজনে ওই দফতরের গাড়ির চালকদেরও এই ডিউটির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ছুটির দিনে যে আধিকারিক ও কর্মীরা অফিসে আসবেন, তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় আপ্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হবে অফিসেই। পশ্চিমবঙ্গ স্টেট হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সমিতির তহবিল থেকেই এই যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের প্রধান সচিবের সই করা এই নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই দফতরের সমস্ত আধিকারিক, বিভিন্ন ডিরেক্টরেট ও প্রশাসনিক শাখার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দিনকয়েক আগে চিকিৎসকদের এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন, সপ্তাহে ৯৬ ঘণ্টা ডিউটি করতে হবে সরকারি হাসপাতালের অধ্যাপক-চিকিৎসকদের। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে চিকিৎসকদের মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে যায়। এই নিয়ে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হতেই কার্যত সুর নরম করে তিনি জানান, সপ্তাহে ৯৬ ঘণ্টা ডিউটি করতে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের আদেশ দেওয়া হয়নি, বরং অনুরোধ করা হয়েছে। সেই রেশ কাটার আগেই এবার দফতরের কর্মী ও আধিকারিকদের হাজিরা নিয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি করল স্বাস্থ্য ভবন।
















