এখনও ক্ষোভে ফুঁসছে সূর্যপুর। ১১ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। ঘটনায় অভিযোগ স্থানীয় এক বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধেও। রবিবারই এক স্থানীয় বিজেপি নেতাকে বাধ্য হয়ে গ্রেফতার করে পুলিশ। রাতে মৃতার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর সোমবার বিকেলে মোমবাতি নিয়ে মিছিল করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে সোমবার সকালে মৃতার বাড়ি পৌঁছে যান তৃণমূল প্রতিনিধিরা। ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে বিহার থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার নাম আনন্দ সর্দার। উঠেছে অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবি। পুলিশের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ যায়নি। তাঁরা এখনও বলছেন, পুলিশ তৎপর হলে মেয়েটাকে এভাবে মরতে হত না। তবে রবিবারের পর এলাকার পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা রয়েছে। এদিকে, নাবালিকা খুনে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে তিন। মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার ছাড়াও বাকি দুই ধৃতের নাম প্রভাস মণ্ডল ও দিবাকর সর্দার। এছাড়া ৬ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের ধপধপি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে পুকুর থেকে এক নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, ওই নাবালিকাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে খুন করে প্রমাণ লোপাটের জন্য তার দেহ একটি পুকুরে ফেলে দেয়। পরে সেই পুকুর থেকে উদ্ধার হয় নাবালিকার দেহ। পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার বিকেল প্রায় ৪টের পর থেকে নাবালিকা নিখোঁজ ছিল। পরিবারের দাবি, বন্ধুর জন্মদিনের উপহার কিনতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল সে। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। তবে এলাকার মহিলারা বলছেন, এই করুণ পরিণতির জন্য পুলিশই দায়ী। মেয়েটিকে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, তখন পুলিশ তৎপর হলে অভিযুক্তরা ধরা পড়ত। মেয়েটিকেও বাঁচানো যেত। কিন্তু পুলিশ নিষ্ক্রিয় থেকে মেয়েটাকে মেরে ফেলল। অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে এখন সরব হয়েছেন তাঁরা।
সোমবার সকাল থেকে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় বিরাট পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুরে ১৬৩ ধারা জারি করা রয়েছে। পোস্টমর্টেমের প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, খুন করে নয়, জীবিত অবস্থাতেই বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় নাবালিকাকে। তার ফুসফুসে কাদাজল পাওয়া গিয়েছে। যেটা মৃত্যুর পর ফেলা হলে হওয়ার কথা নয়। তার আগে বীভৎস অত্যাচারের শিকার হয়েছিল সে। তার যৌনাঙ্গে একাধিক আঘাতের চিহ্ন মিলছে। মাথাতেও রয়েছে ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করার চিহ্ন। এর ফলে প্রচুর রক্তপাত হয়। এই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ তারপর জলে ডুবে শ্বাস বন্ধ হয়েই মৃত্যু হয় নাবালিকার, এমনই ধারণা চিকিৎসকদের। গোটা ঘটনাটি আপাতত পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে পুলিশ।
















