রাজ্যের গুন্ডাদমন বিলে এখনও সই করেননি রাষ্ট্রপতি। ফলে বিলটি আইনে (West Bengal Public Safety and Control of Anti-Social Activities Act, 2026) পরিণতই হয়নি। সুতরাং সেই আইনের বিরোধিতা করে জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করা যাবে না। এই মর্মে বৃহস্পতিবার মামলা খারিজ করল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি জানান, এখনও গুন্ডাদমন বিলে সই করেননি রাষ্ট্রপতি (President Droupodi Murmu)। ফলে সেই বিল আইনে পরিণত হয়নি। সেই কারণে তার বিরোধিতায় মামলা দায়ের করা যাবে না। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, “এখন জানা যাচ্ছে গুন্ডাদমন বিলটি আইনে পরিণতই হয়নি, তাহলে, রাজ্য সরকার বিধানসভায় বিপথে চালিত করলেন কেন?“

গুন্ডা দমন আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court)। এদিন সেটা খারিজ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। কারণ হিসেবে আদালত জানিয়েছে, সেই বিল এখনও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়নি। সুতরাং আগাম মামলা শুনতে পারে না কোর্ট। এই পরিস্থিতিতে আইনে পরিণত হলে তার পরে মামলা দায়েরের পরামর্শ দিয়েছে আদালত।

রাজ্যের গুন্ডাদমন আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মামলা দায়ের করেন CPIM নেতা তথা আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। এই আইন কার্যকর হলে সন্দেহের ভিত্তিতে যে কাউকে গ্রেফতার করবে পুলিশ। অবিলম্বে স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছিল। এই আবেদনের ভিত্তিতেই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছিলেন হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী। কিন্তু এদিনের শুনানিতে সেই আবেদন খারিজ করা হল। 

এই বিষয়ে এদিন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, এখন জানা যাচ্ছে গুন্ডাদমন বিলটি আইনে পরিণতই হয়নি, তাহলে, রাজ্য সরকার বিধানসভাকে বিপথে চালিত করলেন কেন? এই গুন্ডাদমন আইনকে এদিন ফের ব্রিটিশ আমলের কালো রাওলাট আইনের সঙ্গে তুলনা করেন কুণাল। ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দেখতে হবে কেন রাষ্ট্রপতি এখনও বিলটিতে সই করলেন না। এর পরেই তৃণমূল বিধায়ক বলেন, রাজ্য সরকার বিধানসভায় জানানো হল, একটি মিছিলে বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টিকারীদের গুন্ডাদমন আইনে ধরা হবে। কিন্তু যে আইন চালুই হয়নি, সেই আইনে ধরার কথা বলে কেন হাউজকে মিসলিড করা হল? এই আইন অবিলম্বে বাতিল করার দাবি জানান কুণাল।