রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই স্কুলশিক্ষার পরিকাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছিল। এবার সেই জল্পনাই সত্যি করে বৃহস্পতিবার রাজ্যের নতুন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন বিকাশ ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে বড় ঘোষণা করলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জাতীয় শিক্ষানীতি মেনে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত স্কুলের পাঠ্যসূচিতে আমূল পরিবর্তন আনা হবে।
এতদিন রাজ্যে কেন্দ্রীয় জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) লাগু করা হয়নি। নতুন সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এবার থেকে পুরোপুরি এই নীতি মেনেই স্কুলস্তরের সিলেবাস তৈরি করা হবে। নতুন পাঠ্যসূচি হবে মূলত চাকরিমুখী। অর্থাৎ বাস্তব জীবনে কর্মসংস্থানের উপযোগী তথ্য ও দক্ষতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি পড়ুয়াদের ওপর অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ কমাতে পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রতি শ্রেণিতে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাঠ্যবই থেকে কোন অধ্যায় বাদ যাবে বা নতুন কী যুক্ত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে সিলেবাস কমিটির ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, নতুন পাঠ্যসূচিতে জাতীয়তাবাদী ভাবধারার প্রতিফলন দেখা যেতে পারে। মুঘল বা ইসলামিক ইতিহাসের বড় অংশ বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, এতবড় পরিবর্তনের জন্য কিছুটা প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। তাই আপাতত চলতি শিক্ষাবর্ষে বড় কোনো পরিবর্তন না করে কেবল দু-একটি শ্রেণীতে সামান্য পরিমার্জন করা হচ্ছে। তবে ২০২৮ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পুরো পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তকে আমূল বদল আনা হবে।
















