বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে তৃণমূলে যে ভাঙন চলছিল তা অব্যাহত। মমতা পন্থী তৃণমূল থেকে 'বাহানা' দেখিয়ে একেরপর এক তৃণমূল নেতা ঋতব্রত শিবিরে যোগদান করছেন। শুক্রবার সেই তালিকায় যুক্ত হল বনগাঁ উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস এবং রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বারাসত সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি তাপস চট্টোপাধ্যায়। এখানেই শেষ নয় সুর বদলাচ্ছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
এদিন ঋতব্রত শিবিরে যাওয়া নিয়ে বিশ্বজিতের প্রতিক্রিয়া, "উনি (ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়) সুবক্তা। আমি ওঁর কথাবার্তা শুনি, ভালো লাগে। আজ এসে দেখা করলাম। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আমার নেত্রী। তৃণমূল কংগ্রেস আমার পার্টি, আমি লিডারের সঙ্গেই আছি"
তাপস চট্টোপাধ্যায় বলেন, "এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে কোনও কথা বলতে গেলে অন্যের মাধ্যমে বলতে হত। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করলে সে ফোন ধরবে না, আমাদের এখানকার একজন নেতাকে দিয়ে এপ্রুভ করাতে হতো তারপর কথা বলতে হতো। আমি রাজারহাটে বলতে পারেন ৪৯ বছর রাজনীতি করেছি, ৪৪ বছর জনপ্রতিনিধিত্ব করেছি। একেবারে পঞ্চায়েত সদস্য থেকে প্রধান, পুরসভার চেয়ারম্যান, তারপর কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র, বিধায়কও হয়েছি ৷ কখনও দায়িত্বে অবহেলা করিনি। এমনকী বিধায়ক থাকাকালীন একদিনও আমি অনুপস্থিত ছিলাম না। যে কোনও সিদ্ধান্ত অন্য কারও মাধ্যমে যেতে হতো, এতে খুব অপমানিত বোধ করতাম। এতদিন ধরে রাজনীতি করছি, আইপ্যাক বলে একটি সংস্থা- তারা ঠিক করে দেবেন এখানে আমি নির্বাচনে লড়াই করতে পারব না! এখানে আমার মেয়েকেই দিতে হবে, অমুককে করতে হবে প্রার্থী, এসব মানা যায় না৷ যেখানে ব্যক্তি ধরে দলে থাকতে হয়, সেখানে তো সেই দলের ভবিষ্যৎ থাকে না। কালেক্টিভ আলোচনা না হলে তার ভবিষ্যৎ কখনও থাকে না।"
একুশের বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল ছেড়েছিলেন। বিধানসভা থেকে বেরনোর সময় নিজের ঘরে টাঙানো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিটি তিনি বুকে আগলে নিয়ে যান। ২০২১ সালে নিজের কেন্দ্র ডোমজুড় থেকে বিজেপি প্রার্থী হন। কিন্তু তৃণমূল প্রার্থীর কাছে পরাজয় হয় তাঁর। এর বছর খানেকের মধ্যেই ফের তৃণমূলে ফেরেন রাজীব। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে রাজীবকে ডোমজুড় থেকে সরিয়ে তাঁকে ডেবরার প্রার্থী করে তৃণমূল কংগ্রেস। তারপরে তিনি বিজেপি প্রার্থীর কাছে হেরে গিয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের প্রায় আড়াই মাস পর ফের প্রকাশ্যে এলেন। নিজের ফেসবুকে কভার ছবি থেকে সরিয়ে দিলেন মমতা, অভিষেককে। শুধুমাত্র নিজের ছবি দিলেন, যেখানে লেখা – মানুষের সাথে, মানুষের পাশে। অর্থাৎ নিজের ক্ষোভ তিনি সামনে আনলেন।
রাজীব জানান,"মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশেপাশে সবাই বলছেন যে অভিষেক থাকলে তাঁরা দল করবেন না। অভিষেক সরে গেলে সকলে আবার একজোট হয়ে দিদির পাশে থাকবেন। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না যে এখনও কেন দিদি অভিষেকের হাতটা ধরে আছেন। এটা আমাদের নেতাদের কথা নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের অগণিত সাধারণ কর্মীদের মনের কথা এটাই। আমার বক্তব্য হল, রাজনীতি করা মানুষের জন্য। সেই কাজই যদি না করতে পারি, কেন দলে থাকব?” তাঁর আরও বিস্ফোরক অভিযোগ,"অভিষেক আমার রাজনৈতিক কেরিয়ার, পরিবার সব শেষ করে দিয়েছে। যেসব আসন আইপ্যাক তাঁকে বিক্রি করে দিয়েছে, সেখানেই পরাজয় ঘটেছে দলের প্রার্থীদের।" প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেবেন? নাকি আবারও বিজেপির ফিরবেন?
















