“মুখ্যমন্ত্রী খালি হাতে ভবানী ভবনে আসবেন, এটা হয় নাকি?“- বলেই পুলিশ কর্মীদের রেশনের বরাদ্দ ১৫০০ থেকে বাড়িয়ে ২০০০ হাজার করার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার, অনুষ্ঠানে ১ লক্ষ কর্মী নিয়োগ থেকেশুরু করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (NIA) ধাঁচে ‘এসআইএ’ গঠন-সহ পুলিশের উন্নয়নে একগুচ্ছ ঘোষণা করেন। জানান, আগামী কয়েকটি অর্থবর্ষে ধাপে ধাপে রাজ্যে ১ লক্ষ নতুন পুলিশকর্মী নিয়োগ করা হবে।
NIA-এর ধাঁচে বাংলার ‘SIA’, ১ লক্ষ পুলিশ নিয়োগ: বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, বাড়ল রেশনের বরাদ্দও
অনুষ্ঠানে ১ লক্ষ কর্মী নিয়োগ থেকেশুরু করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (NIA) ধাঁচে ‘এসআইএ’ গঠন-সহ পুলিশের উন্নয়নে একগুচ্ছ ঘোষণা করেন। জানান, আগামী কয়েকটি অর্থবর্ষে ধাপে ধাপে রাজ্যে ১ লক্ষ নতুন পুলিশকর্মী নিয়োগ করা হবে।
Sponsored

কাটমানি থেকে সিন্ডিকেট রাজ, বেআইনি মদের কারবার রুখতে আলাদা আলাদা টোল-ফ্রি (Toll Free) হেল্পলাইন (Helpline Number) উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই পুলিশের আধুনিকীকরণে একগুচ্ছ ঘোষণা করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। পুলিশে ১ লক্ষ কর্মী নিয়োগ থেকে শুরু করে NIA ধাঁচে ‘এসআইএ’ গঠন, ডিএ-র একাংশ মেটানো ৭ম বেতন কমিশন বলবৎ করা, রেশনের বরাদ্দ বাড়ানো- সবই ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী খালি হাতে ভবানী ভবনে আসবেন, এটা হয় নাকি? পরে আরও দেব, ভালোভাবে কাজ করুন।”
জাতীয় স্তরে প্রতি ১ লক্ষ জনসংখ্যায় গড়ে ১৫৫ জন পুলিশকর্মী থাকলেও এরাজ্যে সেই অনুপাত মাত্র ১০৬। উত্তরপ্রদেশে যোগী রাজ্যে এই সংখ্যা প্রতি লক্ষে ২০০। উত্তরপ্রদেশ মডেলকে সামনে রেখেই তাঁর সরকার এগোতে চাইছে বলে জানান বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ”আমরা যদি পুলিশের সংখ্যা নিয়ে রিভিউ করি, দেখব যেখানে দেশে জনসংখ্যায় পুলিশ রয়েছে গড়ে প্রতি লক্ষে ১৫৫ জন। আমাদের রাজ্যে পুলিশ আছে ১০৬ জন। এ ক্ষেত্রে আমরা উত্তরপ্রদেশকে অনুসরণ করতে পারি। সেখানে ১ লক্ষে ২০০ জন করে পুলিশ কর্মী আছেন। আগামী কয়েক বছরে পর্যায়ক্রমে ১ লক্ষ নতুন পুলিশ কর্মী নিয়োগ হবে। ইতিমধ্যে ৪৭ হাজার ভ্যাকেন্সি আমাদের মধ্যে আছে। ওবিসি জট কাটিয়ে উঠতে পেরেছি বিধানসভায় বিল এনে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সুপ্রিম কোর্টে মামলা থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। আমাদের ১৪ হাজার পুলিশ কনস্টেবল ট্রেনিং নিয়ে বসে আছেন কাজে যোগদান করার জন্য। তাদের আমরা আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই কাজে লাগাতে পারব এই ব্যবস্থা আমরা করেছি।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ”আগামী কয়েক বছরে পর্যায়ক্রমে ১ লক্ষ নতুন পুলিশ কর্মী নিয়োগ হবে। আমাদের ১৪ হাজার পুলিশ কনস্টেবল ট্রেনিং নিয়ে বসে আছেন কাজে যোগদান করার জন্য। তাঁদের আমরা আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই কাজে লাগাতে পারব এই ব্যবস্থা আমরা করেছি।”
এখানে NIA-এর মতো SIA গঠন করা হবে বলেও এ দিন জানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ”এনআইএ এক মতোও এসআইএ ‘স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি’ (SIA) গঠন করার পরিকল্পনা হয়েছে। মহিলা কনস্টেবলদের নিজের জেলা এবং মহিলা অফিসারদের জন্য পাশের জেলায় যাতে দায়িত্ব দেওয়া হয় সেটা বলেছি৷ থানাগুলোর অবস্থা কঠিন। ৫৫২ থানা রয়েছে। অধিকাংশ থানায় বিল্ডিং নেই, ব্যারাক নেই, জিম যোগা করার মতোও ব্যবস্থা নেই৷” শুভেন্দুর কথায়, ”পুলিশ পুলিশমন্ত্রীর মুখ উজ্জ্বল করেছে। আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আপনার যা করার করবেন, আইন মেনেই করবেন। আমি আছি।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ”প্রাথমিক সুবিধা গুলোর জন্য অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত হয়েছে৷ সিসিটিভি থেকে বড়ি ক্যামেরা এবং নানা ধরনের প্রযুক্তির সুবিধা যাতে পুলিশ পায় তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আপনারা পিছিয়ে আছেন পরিতকাঠামো ও সরকারের বিভিন্ন সাহায্যের ক্ষেত্রে৷ ডিজির সাথে কথা হয়েছে। আপনাদের গাড়ি গুলোর ইনশিওরেন্স নেই। ১৫ বছর পেরিয়ে গেছে। দুর্ঘটনা ঘটলে আপনারা ইনশিওরেন্স পান না। তাই পর্যায়ক্রমে গাড়ি নিয়ে আসা হচ্ছে৷ ভারত সরকারের সাহায্য নিয়ে পুলিশের জন্য পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হচ্ছে৷ এ ছাড়া পুলিশের প্রায় ৪ হাজার পুরনো ও বিমাহীন যানবাহনকে পর্যায়ক্রমে সরিয়ে আধুনিক নতুন গাড়ি আনা হবে।”
একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাজ্য গঠিত সপ্তম বেতন কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ হস্তান্তরিত হলেই তা দ্রুত কার্যকর হবে। একই সঙ্গে জানান, প্রথম দফায় আগামী অক্টোবর থেকেই পুলিশকর্মীদের বেতনে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ যুক্ত হচ্ছে। ২০১৭ সাল থেকে আটকে থাকা ১৫০০ টাকার রেশন ভাতা বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করা হল, যা অক্টোবর থেকেই কার্যকর হবে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক বঙ্গ সফরের দিকনির্দেশকে সার্থক রূপ দিতে রাজ্য পুলিশকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সাজিয়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (NIA) আদলে রাজ্যে গঠিত হচ্ছে ‘স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি’ (SIA)।
পুলিশকর্মীদের পেশাদারিত্ব বাড়াতে গুজরাটের ‘রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং অসমের তেজপুরে অবস্থিত বিএসএফ-এর উচ্চতর ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে দল পাঠিয়ে প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। নতুন বলবৎ হওয়া 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা' (BNS) এবং মানবাধিকার কমিশনের রূপরেখা মেনে বিশেষ পাঠক্রমও চালু হচ্ছে।
ভবানী ভবনে দাঁড়িয়ে কারও নাম না করে শুভেন্দুর মন্তব্য, ”কখনই পুলিশকে ইউনিফর্ম খুলিয়ে মিটিং মিছিলে ব্যবহার করব না।”
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

More from রাজ্য
View All →
অভিনব উদ্যোগ মুখ্যমন্ত্রীর: কাটমানি থেকে সিন্ডিকেট- ৪ দুর্নীতির অভিযোগ জানাতে চালু আলাদা টোল-ফ্রি হেল্পলাইন
10h ago

বাংলায় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা নেই, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ধৃতদের জেল হেফাজত
11h ago

বহাল স্থিতাবস্থা, ৬ অগাস্ট পর্যন্ত ভাঙা যাবে না আমতলার কার্যালয়: নির্দেশ হাই কোর্টের
11h ago

তিন গাড়ি মাদক বাজেয়াপ্ত পুরুলিয়ায়, জেলা পুলিশের প্রশংসা মুখ্যমন্ত্রীর
12h ago

ভিনরাজ্যে রক্ত বিক্রির অভিযোগ, একযোগে ৬ ব্লাড ব্যাঙ্কে স্বাস্থ্য দফতরের অভিযান
14h ago







