দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের (ECI) ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষ, বাইরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) জানালেন, "দাবির কোনও প্রশ্ন নেই, আমরাই আসল তৃণমূল"। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সন্দীপন -ঋতব্রতদের কথা শুনেছেন বলে তাঁদের দাবি। খুব দ্রুত ECI সিদ্ধান্ত জানাবে বলে তিনি আশাবাদী।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস শিবির কার্যত দুটো ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। এর মাঝেই নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হাত থেকে দলের নিয়ন্ত্রণ দখলে মরিয়া ঋতব্রতরা। বৃহস্পতিবারের বৈঠক প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জানান, “গত ২২ জুন আমাদের বিশেষ ডেলিগেটদের অধিবেশন হয়েছে। সেখানে অরূপ রায়কে চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করা হয়েছে। কোষাধ্যক্ষ করা হয় আখরুজ্জামানকে। সেই অধিবেশন সম্পর্কে পরদিনই আমরা কমিশনকে জানাই। আজ কমিশনের ফুল বেঞ্চ অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসকে সময় দিয়েছিল। আমরা দেখা করে আমাদের বক্তব্য জানিয়েছি।” এখানেই শেষ নয়। তাঁর আরও দাবি, “আসল তৃণমূল, বা তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে কোনও বিবাদের প্রশ্নই নেই। দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক আমাদের সঙ্গে, প্রাক্তন মন্ত্রীরা আমাদের সঙ্গে। কাউন্সিলররা আমাদের সঙ্গে, জেলা পরিষদের সদস্যরাও আমাদের সঙ্গে।” একই সুর শোনা গেল বিধায়ক সন্দীপন সাহার (Sandipan Saha) গলাতেও।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের নিশানা করে ঋতব্রত বলেন, “এখানে আমরা যারা আছি কেউ ব্যক্তি নই। আমাদের লড়াইটাই ব্যক্তিপুজোর বিরুদ্ধে। তৃণমূল স্তরের একটা পার্টি যেভাবে একজন ‘চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাট’-এর দ্বারা হাইজ্যাক হয়ে গিয়েছিল, যে পার্টি একটা পারিবারিক সম্পত্তিতে, একটা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয়েছিল— আমরা সবাই মিলে সেই একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়ছি। এটা সমষ্টির লড়াই।" অর্থাৎ তৃণমূলের এই গোষ্ঠীর লড়াই যে দল হাইজ্যাক করার বিরুদ্ধে স্পষ্ট করে দিতে চেয়েছেন বিরোধী দলনেতা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় আসার পর 'আমি'র থেকে 'আমরা'তে গুরুত্ব দিয়েছেন, সেই একই পথের ইঙ্গিত দিলেন ঋতব্রতরাও! এদিনের বৈঠকে বিরোধী দলনেতা ছাড়াও অরূপ রায়, সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামান, গোলাম আহমেদ রব্বানি, স্নেহাশিস চক্রবর্তীরা উপস্থিত ছিলেন।
















