বালিশ শিবির অর্থাৎ দলবদলু বেইমানদের এখন প্রাণান্তকর অবস্থা। যেতেও কাটছে, আসতেও কাটছে। এক তো শিবিরে ভাঙন ক্রমশ অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছে। ছত্রাখান অবস্থা। অন্যদিকে এলাকায় ঢুকতে না পারার গ্লানিতে বিজেপির  প্রবল চাপে তারা দিশেহারা। 

২১ জুলাইয়ের সভা করতে গিয়ে বোঝা গিয়েছে এরা বাস্তবতই কাগুজে বাঘ। বালিশ শিবিরের সকলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেখিয়ে বিধায়ক হয়েছেন। ছবি সরিয়ে নেওয়ার পর  বিগ জিরো। সেটা ২১এর দুপুরে  মেয়ো রোডের  ফাঁকা সবুজ চেয়ারগুলো প্রমাণ দিচ্ছিল। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার জনজোয়ার বুঝিয়ে দিয়েছে আসল আর বালিশের তফাৎ কোথায়!

বালিশ শিবিরের বিধায়করা এলাকায় ঢুকতে পারছে না। কেউ কেউ তো এলাকায় না গিয়ে এমএলএ হস্টেলকে পাকা ঠিকানা করে নিয়েছে। কিন্তু বিজেপির চাপ রয়েছে। এলাকায় যেতে হবে। দেখাতে হবে লোক সঙ্গে রয়েছে। অগত্যা তাই রাজনৈতিক উনচ্ছবৃত্তি শুরু করেছে কয়েকজন। বালিশ ঋতকে দেখা গেল উলুবেড়িয়ার একটি সাজানো অফিসে বসে। সঙ্গে হাতে গোনা ১৫-২০জন। তার মধ্যে অন্তত ৭জন বিজেপির দেওয়া নিরাপত্তারক্ষী। খালি পোশাক বদলে গিয়েছে! সঙ্গের ফটোগ্রাফারটি বেশ। যে যে অ্যাঙ্গেল আর পজিশনে ছবি নিলে মনে হবে দারুন ব্যাপার, তাতে সে সিদ্ধহস্ত। কিন্তু বিড়ালকে বাঘের ছাল পরালেই কি বিড়াল বাঘ হয়ে যায়! পরিষেবা না পেয়ে এলাকার মানুষের বিক্ষোভ প্রত্যন্ত এলাকায় শুরু হয়েছে। বালিশ ঋতর নির্দেশেই আরও কয়েকজন এই চৌর্যবৃত্তির স্ট্র‍্যাটেজি নিতে চলেছে। ছবি আসতে চলেছে। 

একেই বলে চাপ। আমরা আছি। মানুষ সঙ্গে রয়েছেন। সব ঠিক আছে। রাজনৈতিক প্রভুদের দেখাতে হবে। নইলে এসব গাড়ি, সান্ত্রী, চেয়ার টেবিল সব তো কেড়ে নেবে! সামনে বুমগুলোও তো সরে যাবে। বিজেপির প্রবল চাপে নিজেদের প্রমাণ করতে এ কী হাল বালিশ শিবিরের! রাজনৈতিক মহল কটাক্ষ করে বলছে, ধুর! এত পরিশ্রমের কী আছে! সস্তায় একটা যাত্রাদল ভাড়া করে নিলেই তো হয়!!