বারুইপুরে 'বালিশ-চাটা' শুনলেন ঋতব্রত! সায়নীদের 'গদ্দার-বেইমান' কটাক্ষ

বারুইপুরে নৃশংস ধর্ষণ- খুনের ঘটনায় (Baruipur Rape Murder case) যখন উত্তপ্ত রাজ্য, প্রতিবাদে সরব সাধারণ মানুষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media), তখন গত ৭২ ঘন্টা ধরে কোথায় ছিলেন যাদবপুরের সাংসদ? মঙ্গলবার সকালের সায়নী ঘোষ (Sayani Ghosh) এলাকায় পৌঁছতেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ এলাকাবাসীর। দুদিন আগে দিল্লিতে বড় বড় কথা বলা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে এদিন শুনতে হলে "বালিশচাটা" স্লোগান। ককরোচ জনতা পার্টির ওয়েস্ট বেঙ্গল পেজ (CJP West Bengal) থেকে ইতিমধ্যেই সেই ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে (সত্যতা যাচাই করেনি বিশ্ববাংলা সংবাদ)। পুলিশের সাহায্যে এলাকা ছাড়তে হল বিধানসভার বিরোধী দলনেতাকে।
Sponsored

রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত দু'মাসে অন্তত ছয় থেকে সাতটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) বারবার জিরো টলারেন্সের কথা বললেও বাস্তবে কতটা কার্যকর করা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনে। এই অবস্থায় গত রবিবার সূর্যপুরে কিশোরীর ধর্ষণ খুনের ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তাল গোটা রাজ্য। পথে নেমে প্রতিবাদ করেছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু যিনি যাদবপুরের সাংসদ, তিনি শুধুমাত্র বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করার জন্য একটি পোষ্ট করেই ক্ষান্ত রইলেন কেন? গত তিনদিন ধরে কোথায় ছিলেন? কেন এলাকায় এলেন না? মঙ্গলবার এইসব প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হল তৃণমূল থেকে NCPI-তে যাওয়া, লোকসভার সাংসদ সায়নীকে। এদিন নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে পৌঁছন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, শিউলি সাহা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং সায়নী। প্রথমে পুলিশ তাঁদের আটকায়। দীর্ঘক্ষণ বাকবিতন্ডার পর এলাকার সাংসদ হিসেবে প্রথমে প্রবেশের অনুমতি পান সায়নী। ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ। সাংসদকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, 'তিন দিন পর আসার সময় হল?' এমনকি তাঁকে দেখে দরজাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। সায়নী জানান, সংসদের কিছু কাজ পড়ে গিয়েছিল তাঁর। পরবর্তীতে সকলেই নিহত নাবালিকার বাড়িতে প্রবেশ করেন। যাদবপুরের সাংসদ বলেন, "আমার প্রতি যদি কোনও অভিমান থাকে, ১০০ বার বলতে পারেন। এক মিনিটের জন্য যেমন আটকাবেন, তেমন ভাবে আধ ঘণ্টার জন্য ভিতরে ঢুকিয়ে কথাও বলবে। এটা আমাদের বিষয়।" এরপর দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, "সামনে চারজন আছে বলে, চারজনই নয় কিন্তু। এর পিছনে বড় ব়্যাকেট আছে।"
Sponsored

তবে এখানে এই ঘটনার ইতি নয়। এর পরের ঘটনা বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে। এমনিতেই তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া বিধায়ক, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করতে এতই ব্যস্ত যে তিনি নিজের এলাকায় যেতে পারেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। দিন কয়েক আগেই দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করার পর দাবি করেছিলেন যে তাঁকে 'গদ্দার' শুনতে হলেও 'চোর' স্লোগান শুনতে হয় না। কিন্তু তাঁর ধারণা যে কতটা ভুল সেটা এদিন হাতেনাতে প্রমাণ হয়ে গেল। বিক্ষুব্ধ জনতার মাঝে কার্যত নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশের সহায়তায় এলাকা ছাড়তে হলো ঋতব্রতকে। তবে তাঁকে ঘিরে 'চোর' স্লোগান দেওয়া বন্ধ হল না। পাশাপাশি 'গদ্দার', 'বেইমান', ' বালিশচাটা'ও বলা হল তাঁকে। ককরোচ জনতা পার্টির দেওয়া ভিডিও দেখা গেছে রীতিমতো তাড়াহুড়ো করে ছাতা মাথায় দিয়ে এলাকা থেকে বেরিয়ে নিজের গাড়ির দিকে চলে যান বিধায়ক। এই প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Related Articles

ফেসবুক লাইভে 'অবমাননাকর' মন্তব্য! মদন মিত্রকে ১০ কোটির নোটিশ অভিষেকের
4h ago

চলতি অর্থবর্ষেই সপ্তম বেতন কমিশন! বকেয়া ডিএ নিয়েও বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
5h ago

শিক্ষক বদলিতে ‘সুপারিশ-সংস্কৃতি’ শেষ, চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের সাম্মানিক বৃদ্ধির আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর
5h ago

গ্রেফতারির পর আদালত থেকে জামিন পেলেন অসিত মজুমদার
7h ago

'প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনা' নিয়ে উপভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর
8h ago

ক্যাথেড্রাল রোডমুখী জনস্রোত, মমতার পথেই জনতা
9h ago





