দেশের খেটে-খাওয়া, হতদরিদ্র মানুষদের পেটের ভাতে এবার সরাসরি কোপ বসাল কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। অন্নপূর্ণা অন্ত্যোদয় প্রকল্পে এতদিন যেটুকু চাল-গম জুটত, হিসেবের সূক্ষ্ম মারপ্যাঁচে এবার তাতেও নির্মম কাঁচি চালাল সরকার। ৩৫ কেজি বরাদ্দের গালভরা গল্প শুনিয়ে বাস্তবে মাথাপিছু বরাদ্দ নামিয়ে আনা হলো মাত্র ৭ কেজিতে!

সরকারের এই নয়া নীতির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ছোট পরিবারের প্রান্তিক মানুষেরা। এতদিন নিয়ম ছিল, একটি অন্ত্যোদয় কার্ডধারী পরিবারে সদস্য সংখ্যা যাই হোক না কেন, সেই পরিবার প্রতি মাসে এককালীন ৩৫ কেজি খাদ্যশস্য পেত। কিন্তু এখন পরিবার পিছু বরাদ্দের বদলে ‘মাথাপিছু ৭ কেজি’-র নিয়ম চাপিয়ে গরিবের রেশন চুরি করার অভিনব ফন্দি আঁটা হয়েছে। হিসেবের এই ভাঁওতাবাজি একবার বুঝলেই সরকারের আসল রূপ পরিষ্কার হয়ে যাবে। ধরুন, একটি গরিব পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৩ জন, আগে তাঁরা মাসে ৩৫ কেজি রেশন পেতেন। কিন্তু নতুন নিয়মে তাঁরা পাবেন মাত্র ২১ কেজি। অর্থাৎ, এক লহমায় একটি গরিব পরিবারের থেকে ১৪ কেজি রেশন ছিনিয়ে নিল সরকার! স্বামী-স্ত্রীর ২ জনের পরিবার হলে জুটবে মাত্র ১৪ কেজি, যা আগের ৩৫ কেজির তুলনায় একধাক্কায় ২১ কেজি কম। সোজা কথায়, পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫ জনের কম হলেই তাঁদের বরাদ্দের একটা বড় অংশ স্রেফ হাওয়া হয়ে যাবে।

দিনমজুর ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রশ্ন— পুঁজিপতিদের লক্ষ কোটি টাকার কর্পোরেট ঋণ যখন অবলীলায় মকুব করে দেওয়া হয়, তখন গরিবের রেশন ছাঁটাই করতে সরকারের হাত কাঁপে না কেন? এই কি তবে প্রতিশ্রুত 'আচ্ছে দিন'-এর আসল রূপ? হিসেবের এই কারচুপি আসলে গরিব মানুষকে ভাতে মারার এক সুপরিকল্পিত ছক ছাড়া আর কিছুই নয়! দেশের অন্নদাতাদের ভাতে মেরে পুঁজিপতিদের তোষণ করার এই নীতির কড়া জবাব আগামী দিনে সাধারণ মানুষই দেবে।