Site Logo

আইন রক্ষায় নিহত বাবা, তাঁরই ছেলে প্রতারণায় জেলে!

EBBS Desk·
আইন রক্ষায় নিহত বাবা, তাঁরই ছেলে প্রতারণায় জেলে!

দু’দশক আগে এক বর্ষবরণের রাতে তিলোত্তমার বিবেক জাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এক অপরিচিতা তরুণীর সম্মান বাঁচাতে মদ্যপ সহকর্মীদের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট বাপি সেন। আইনের রক্ষক হিসেবে জীবন উৎসর্গ করা সেই শহিদ পুলিশকর্মীর ছেলেই এবার শ্রীঘরে। বিনিয়োগের নামে কয়েক লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন বাপি সেনের মেজ ছেলে শঙ্কশুভ্র সেন।

রবিবার সকালে আলিপুর আদালতে পেশ করার পর ট্রানজিট রিমান্ডে শঙ্কশুভ্রকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে বেহালার পর্ণশ্রীর বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনাচক্রে, ২০০৩ সালের ঠিক এই জানুয়ারি মাসেই মৃত্যু হয়েছিল বাপি সেনের। বাবার মৃত্যুর ২৩ বছর পর সেই জানুয়ারি মাসেই ছেলের হাতে হাতকড়া পড়ল।

দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, গত ডিসেম্বর মাসে এক ব্যক্তি সাইবার থানায় অভিযোগ করেন যে, মোটা টাকা লাভের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা দেখেন, ওই টাকা যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে, সেটি ব্যবহার করা হচ্ছে কলকাতা থেকে। নজরদারি চালিয়ে পুলিশ জানতে পারে, বেহালা নিবাসী শঙ্কশুভ্র সেন সেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলছেন। এর পরেই হানা দিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও পরিবারের দাবি, শঙ্কশুভ্রকে ভুল বুঝিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। কোনো পরিচিত ব্যক্তি অল্প টাকার বিনিময়ে তাঁকে অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করতে বলেছিলেন।

২০০২ সালের ৩১ ডিসেম্বরের সেই রাত আজও কলকাতার মানুষের মনে টাটকা। ডিউটি না থাকলেও পার্কস্ট্রিটে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে বাপি সেন দেখেছিলেন, পাঁচ জন মদ্যপ পুলিশকর্মী এক তরুণীকে হেনস্থা করছে। নিজের পরিচয় দিয়ে সহকর্মীদের বাধা দিতে গিয়েছিলেন তিনি। যার পরিণতিতে রাজভবনের ঢিলছোড়া দূরত্বে বাপিকে রাস্তায় ফেলে নৃশংসভাবে মারধর করা হয়। ৬ জানুয়ারি মৃত্যু হয় তাঁর। বাপির আত্মত্যাগের পর তাঁর স্ত্রী সোমা সেনকে লালবাজারে চাকরি দিয়েছিল রাজ্য। আইন রক্ষা করতে গিয়ে যে বাবা খবরের শিরোনামে এসেছিলেন, আজ তাঁরই ছেলে আইন ভেঙে পুলিশের হাতে বন্দি। একদা শহিদ সার্জেন্টের বাড়ি চত্বরে যে শোকের আবহাওয়া ছিল, আজ সেখানে শুধুই লজ্জার অন্ধকার। পার্কস্ট্রিটের সেই লড়াকু সার্জেন্টের উত্তরাধিকার যে এভাবে প্রতারণার জালে জড়িয়ে জেলহাজতে পৌঁছবে, তা কল্পনাও করতে পারছেন না তাঁর পরিবারের পরিচিতরা।

আরও পড়ুন- সোমে মিলনমেলায় ডিজিটাল যোদ্ধাদের সঙ্গে বৈঠকে অভিষেক

_

_

Sponsored

Sranchi In Article

_

Sponsored

Merlin In Article

_

Sponsored

Shyam Sundar In Article

_

Sponsored

Camelia In Article

_

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from রাজ্য

View All →