বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পর এবার দুর্গাপূজায় আমিষ খাবার বিক্রি ও খাওয়া নিয়ে বিশেষ নিদান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের (Agnimitra Paul)। রবিবার আসানসোলের বানপুরের দুর্গাপূজা কমিটির খুঁটিপুজো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বাঙালি শ্রেষ্ঠ উৎসবে থিমের নামে মাতৃপ্রতিমার বিকৃতির বিরোধিতা করলেন মন্ত্রী। স্পষ্ট জানালেন, "নির্মল ও পবিত্র পূজা" উদযাপনের মায়ের মুখ ও সাজসজ্জা বিকৃত করা যাবে না। পাশাপাশি মন্ডপে আমিষ খাবার নিয়ে প্রবেশ না করার কথাও বলেন তিনি। 

বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবার দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। হাতে আর মাত্র মাস দেড়েক বাকি। ইতিমধ্যেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদ একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে পুজো প্যান্ডেলের বাইরে কোথাও আমিষ বিক্রি করা যাবেনা। এরপরই বিতর্ক শুরু হয়। বাঙালির মহোৎসবে সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি পোশাক থেকে খাবারে এর আগে কখনও কোনও বিধি-নিষেধ জারি করা হয়নি। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই ফতোয়া জারি! সমালোচনার ঝড় বাড়তেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেন অগ্নিমিত্রা। তিনি বলেন, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কথা বিকৃত করা হয়েছে। মন্ডপের বাইরে আমিষ খাবারে কোনও সমস্যা নেই, তবে ভিতরে প্রবেশ করা যাবে না। এছাড়াও থিমের নামে জুতো চটি ব্যবহার করা থেকে শুরু করে সাজসজ্জার বিকৃতিরও বিরোধিতা করেন তিনি। 

এদিন আসানসোলে দুর্গাপুজোর খুঁটিপুজো উপলক্ষে নিজে ঢাক বাজান অগ্নিমিত্রা। তাঁর ঢাকের বোলে নৃত্য পরিবেশন করেন পুজো কমিটির মহিলা সদস্যরা। বিজেপি মন্ত্রী, উৎসবের মরশুমে গোটা শহরকে সুন্দর করে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা এবং পানীয় জলের মতো নাগরিক সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান। দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান প্রসঙ্গে এদিন অগ্নিমিত্রা বলেন, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এই সংখ্যাটা বৈঠক করবেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। উল্লেখ্য ২০২৫ সালে রাজ্যের দুর্গাপুজো কমিটিগুলির জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে এক লক্ষ দশ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছিল। এবারে তার পরিমাণ সামান্য হলেও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন পুজো উদ্যোক্তারা। যদিও সকলকে এই অর্থ দেওয়া হবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। তৃণমূল সরকারের আমলে আর্থিক অনুদানের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলে ছাড় এবং ফায়ার ও অন্যান্য সরকারি লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা করা হয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারী সেই সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেন কিনা এখন সেটাই দেখার।