দলত্যাগী তৃণমূল বিধায়কদের পদ খারিজের শুনানি শেষে স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুললেন পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার রাতে তৃণমূল বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদন প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে খারিজ করে দেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার। এর পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য, শুনানিতে স্পিকার যেভাবে কথা বলছিলেন, তাতে এই পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্তই প্রত্যাশিত ছিল। তাঁর কথায়, “আমরা কেন সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেটা তো আমাদের দলের বিষয়! আমি স্পিকারের বিরুদ্ধে কিছু বলছি না, দলের টিকিটে জিতে যাঁরা বেইমানি করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়েছি।” একই সঙ্গে বাকি বিধায়কদের প্রসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, “দশ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে আর্জি জানিয়েছিলাম, অথচ শুধু সাবিনার ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত জানানো হল। বাকিদের ক্ষেত্রে কি তবে আমাদের আবেদন মেনে নেওয়া হচ্ছে?”
ঘটনার সূত্রপাত সংবিধানের দশম তফসিলের দলত্যাগ বিরোধী আইনকে কেন্দ্র করে। তৃণমূলের টিকিটে জিতে দলবদলকারী দশ জন বিধায়কের পদ খারিজের দাবিতে স্পিকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে অংশ নেন তিনি। কিন্তু শুনানি পর্ব মিটতেই রাতেই সাবিনা ইয়াসমিনের আবেদনটি খারিজের নির্দেশ জারি করেন স্পিকার।
বিধানসভার নির্দেশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৮৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার দলত্যাগ বিরোধী বিধিমালার ৬(৭) নম্বর ধারা পূরণ না হওয়ার কারণেই এই পদক্ষেপ। মূল পিটিশনটি যথাযথ ভাবে যাচাই করা হলেও তার সঙ্গে সংযুক্ত নথিগুলি বিধিমোতাবেক নিয়ম মেনে যাচাই করা হয়নি। স্পিকারের পর্যবেক্ষণ, সংযুক্ত নথিতে স্রেফ স্বাক্ষর থাকলেই শর্ত পূরণ হয় না, প্রতিটি পাতা পিটিশনের অনুরূপ যাচাই হওয়া বাধ্যতামূলক। সেই আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না থাকায় ৭(২) নম্বর বিধি অনুসারে আবেদনটি খারিজ করা হয়।
সাবিনার আইনজীবী সুমিতাভ চক্রবর্তী জানান, শুনানিতে তাঁরা নিয়মভঙ্গের এই বিষয়টি তুলে ধরে মামলা খারিজের আর্জি জানিয়েছিলেন। তবে স্পিকার তাঁর আদেশে স্পষ্ট করেছেন, এই খারিজ সাবিনা ইয়াসমিনের দলত্যাগের অভিযোগের বিচার বা তাঁকে ক্লিনচিট দেওয়া নয়। অভিযোগের সারবত্তা খতিয়ে না দেখে স্রেফ প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এটি বাতিল হয়েছে। ন্যায়ের স্বার্থে সমস্ত আইনি নিয়ম মেনে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে নতুন করে আবেদন দাখিলের সুযোগও দেওয়া হয়েছে।















