ভোটের মুখে বিরোধী আসনে বসে তাঁদের চেনা স্লোগান ছিল— ‘বাংলায় শিল্প নেই, বিনিয়োগ নেই, কাজ নেই’। সেই অভিযোগকে হাতিয়ার করে বাংলার মানুষের মন জয় করতে চেয়েছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতা দখলের পরেই সেই প্রতিশ্রুতির মুখোশ খসে পড়ল বলে অভিযোগ উঠছে। রাজ্যের স্থানীয় মেধা, প্রযুক্তি ও সংস্থাগুলিকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইডেন গার্ডেন্সে মহালয়ার মেগা পুজো উদ্বোধনের প্রায় ১৮০ কোটি টাকার বরাত সরাসরি তুলে দেওয়া হল গুজরাতের এক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার হাতে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে। 

বিরোধীদের স্পষ্ট অভিযোগ, বিরোধী আসনে থাকার সময় যারা রাজ্যে শিল্পের বিকাশের কথা বলে গলা ফাটিয়েছিল, মসনদে বসেই তারা বাংলার মানুষের করের টাকা সুকৌশলে পাচার করছে মোদি-শাহের খাসতালুকে। রাজ্যের আর্থিক অবস্থা যখন কার্যত নড়বড়ে, তখন স্রেফ চমক তৈরি করতে রাজকোষের দেড়শো থেকে একশো আশি কোটি টাকা খরচ করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেও আপত্তি উঠেছিল। কিন্তু সেই সমস্ত আপত্তিকে উড়িয়ে দিয়ে পুরো অর্থই তুলে দেওয়া হয়েছে ভিন রাজ্যের ওই সংস্থাকে। প্রশ্ন উঠছে, এ রাজ্যে কি এমন কোনও দক্ষ ইভেন্ট বা তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ছিল না, যারা এই কাজের যোগ্য? কেন বাংলার কাজের সুযোগ ও লাভের ভাগ কেড়ে নিয়ে গুজরাতের সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়া হল? 

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে অনুষ্ঠানের রাজনৈতিক ফলপ্রসূতা নিয়ে। যে অনুষ্ঠান ঘিরে রাজ্য বিজেপি সরকার এত ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার চালিয়েছিল, সেখানে খোদ দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। প্রথমে ঘটা করে প্রচার চালানো হয়, প্রধানমন্ত্রী নিজে এসে এই জমকালো উদ্বোধনে উপস্থিত থাকবেন। সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর আসরে নামানো হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনিও সফর বাতিল করে পিঠটান দেওয়ায় চরম মুখ পুড়েছে বিজেপি সরকারের। 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা বিজেপির দ্বিচারিতাকেই সামনে এনে দিয়েছে। বাংলায় নতুন বিনিয়োগ এনে স্থানীয় সংস্থাকে চাঙ্গা করার পরিবর্তে ভিন রাজ্যের সংস্থাকে কোটি কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়া আসলে রাজ্যবাসীকে বঞ্চিত করারই নামান্তর। ক্ষমতা দখলের পর বাংলার কোষাগারের টাকায় অন্য রাজ্যের সংস্থাকে ফুলেফেঁপে উঠতে সাহায্য করার এই নীতি যে রাজনৈতিক ভাবে বিজেপির জন্য বুমেরাং হতে পারে, সেই ইঙ্গিত ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।