ভোট গণনার আগের রাতেই রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক পারদ চড়ল এক ধাক্কায়। বহিরাগত হয়েও বুথে ঢুকে খোদ বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার নিজে হাতে ছাপ্পা ভোট দিয়েছেন— এমন একটি বিতর্কিত ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবির। (যদিও এই ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি বিশ্ব বাংলা সংবাদ।) অভিযোগ উঠছে এভাবেই কী দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে? উত্তরটা অবশ্য আগামিকাল নির্বাচনের ফলাফলের পরেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। 

আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি পোস্ট করে নির্বাচন কমিশন এবং স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, রেজিনগর বিধানসভার কামনগর অঞ্চলের ১২ নম্বর মজলিশ বুথে গিয়ে নিজেই ব্যালট বা ইভিএমে বেআইনিভাবে ভোট লুটের প্রক্রিয়া চালান বিজেপি প্রার্থী। তিনি ওই এলাকার নিবন্ধিত ভোটার না হওয়া সত্ত্বেও কী করে একাধিক বুথের ভেতরে স্বাচ্ছন্দ্যে প্রবেশ করলেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, পুলিশ প্রশাসন ও কমিশনের প্রত্যক্ষ মদতেই এই ঘটনা ঘটেছে। বিতর্কিত বুথের দায়িত্বরত সেক্টর অফিসার-সহ সমস্ত কর্মকর্তাদের অবিলম্বে বরখাস্ত করার পাশাপাশি ওই বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহেই শুক্রবার সকালে শুরু হতে চলেছে রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম— দুই হাইভোল্টেজ বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোট গণনা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, গণনাকে কেন্দ্র করে দুই কেন্দ্রেই নেওয়া হয়েছে অভূতপূর্ব ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গণনাকেন্দ্রের একশো মিটারের মধ্যে তৈরি করা হয়েছে পথচারী এলাকা বা পেডেস্ট্রিয়ান জোন।

রেজিনগর কেন্দ্রের ভোট গণনা সম্পন্ন হবে বহরমপুর গার্লস কলেজে। সেখানে দুটি পৃথক হলে মোট ১৫ রাউন্ডে গণনা চালানো হবে। থাকবে একটি পোস্টাল ব্যালট ঘর এবং একজন কাউন্টিং পর্যবেক্ষক। অন্যদিকে, নন্দীগ্রামের ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হবে কবি সুকান্ত সেকেন্ডারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে। সেখানেও মোট ১৫ রাউন্ডে এবং দুটি হলে ইভিএম গণনা হবে। পোস্টাল ব্যালটের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। নন্দীগ্রামে মোট ৮০.৮৯ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।

ভোটের ফল ঘোষণার পর যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য স্ট্রং রুম থেকে শুরু করে গণনাকেন্দ্রের বাইরে কড়া নজরদারিতে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ। শুক্রবার সকাল থেকেই শুরু হতে চলেছে শেষ পর্বের লড়াই। এখন নজর কেবল ফলাফলের দিকে— কার মাথায় ওঠে জয়ের মুকুট, তাই দেখার।