স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে আগামী ৯ থেকে ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কেন্দ্রের সংস্কৃতি মন্ত্রকের নির্দেশিকার ভিত্তিতে নবান্নের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর ইতিমধ্যেই সমস্ত সরকারি দফতর, জেলাশাসক এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনার-সহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত নির্দেশিকা পাঠিয়েছে।
‘হর ঘর তিরঙ্গা’ নিয়ে তৎপর নবান্ন, ৯ থেকে ১৭ অগাস্ট রাজ্যজুড়ে বিশেষ কর্মসূচির নির্দেশ
Sponsored

২৪ জুলাই জারি হওয়া ওই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম এবং জাতীয় পতাকার প্রতি নাগরিকদের আবেগ ও অংশগ্রহণ আরও বাড়িয়ে তুলতেই এ বছরের কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। এর আওতায় সরকারি দফতর, পঞ্চায়েত, পুরসভা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক ও যুব সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচির সফল রূপায়ণে একগুচ্ছ কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে নবান্নের নির্দেশিকায়। জেলা, মহকুমা, ব্লক ও পুরস্তরে বৃহৎ তিরঙ্গা মিছিল ও প্রভাতফেরি, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাইকেল ও ই-বাইক র্যাালি, সরকারি ভবন, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা, বাস টার্মিনাস, ফেরিঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ জনপরিসরে তিরঙ্গা-থিমের আলোকসজ্জা, বড় আকারের তিরঙ্গা রঙোলি, দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রবন্ধ, কুইজ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং স্বাধীনতা আন্দোলনভিত্তিক প্রদর্শনীর আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি দফতর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে সমবেতভাবে ‘বন্দে মাতরম্’ এবং দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি পরিবার, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থাকে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ পোর্টালে তিরঙ্গার সঙ্গে সেলফি আপলোড এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচার বাড়ানোর নির্দেশ রয়েছে। প্রচারের জন্য ব্যানার, পোস্টার এবং ডিজিটাল প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, কেন্দ্র থেকে প্রতিটি জেলা ও কলকাতা পুর এলাকার জন্য দেড় লক্ষ করে এবং কালিম্পং জেলার জন্য ২০ হাজার জাতীয় পতাকা সরবরাহ করা হবে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
এই কর্মসূচির জন্য আর্থিক বরাদ্দও নির্ধারণ করেছে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। প্রতিটি জেলা ও পুরনিগমের জন্য ১ লক্ষ টাকা, প্রতিটি মহকুমার জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং প্রতিটি ব্লক ও পুরসভার জন্য ২০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ করা হবে। নবান্নের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সব সরকারি কর্মী, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংগঠন এবং ব্যবসায়িক সংস্থার সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর মোট অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা, আলোকচিত্র, তিরঙ্গার সঙ্গে সেলফি এবং ভিডিও-সহ একটি সমন্বিত রিপোর্ট দ্রুত তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রের সংস্কৃতি মন্ত্রকের ১৪ জুলাইয়ের ডিও চিঠির ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ। আগামী ২০২৬ সালে ‘বন্দে মাতরম্’-এর ১৫০ বছর উদ্যাপনের সঙ্গে যুক্ত করে ৯ থেকে ১৭ অগাস্ট দেশজুড়ে পালিত হবে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি, যেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম্’-এর সমবেত পরিবেশনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

More from রাজ্য
View All →
পৈলান হাটে ডায়াগনস্টিক কেন্দ্রের উদ্বোধন, স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে শিক্ষার নতুন উদ্যোগ পৈলান গ্রুপের
10h ago

একাধিক দাবিতে ধর্মঘট! সোমবার মিলবেই না অ্যাপ-ক্যাব
10h ago

সংশোধনী বিল এনে ঘুরপথে পঞ্চায়েত দখলের চেষ্টা বিজেপির, বিস্ফোরক অভিযোগ কুণালের
11h ago

বাড়ছে গ্রেফাতরির সংখ্যা, ছাত্র যুবদের আন্দোলনে অশান্তি নিয়ে ফের কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
13h ago

বৃষ্টি শেষে আপাতত স্বস্তি কলকাতায়, জেনে নিন রবিবারের আবহাওয়ার আপডেট
15h ago







