স্পিকারের মনোনীত বিরোধীদের হাতেই গুরুত্বপূর্ণ কমিটির দিল বিজেপি সরকার (BJP Government)। শাসকের B-টিমের হাতেই স্ট্যান্ডিং কমিটি (Standing Committee)। দীর্ঘদিনের সংসদীয় রীতিনীতিকে পদদলিত করে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বাধীন মূল তৃণমূলের (TMC) পরিষদীয় দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের (Sovandev Chatterjee) সঙ্গে বিন্দুমাত্র আলোচনা ছাড়াই এই কমিটিগুলি গঠন করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রহসন হল- পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (PAC) মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে ঋতব্রত-পন্থী বিধায়ক কানাইয়ালাল আগরওয়ালের হাতে। বিরোধী শিবিরের হাতে যাওয়া দশটি স্থায়ী কমিটির মধ্যে ন'টিই কুক্ষিগত করেছে ঋতব্রত-ঘনিষ্ঠ এই সরকারের বি-টিম। আর যে প্রবীণ নেতারা প্রকৃত অর্থে সরকারের জন বিরোধী নীতির তীব্র বিরোধিতা করতে পারতেন, তাঁদের চরম অপমান করা হয়েছে। পনেরো বছরের প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা হয়েছে লাইব্রেরি কমিটিতে, আর দশবারের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বা প্রবীণ রাজনীতিক অশোক দেবের মতো দক্ষ নেতাদের একটিও চেয়ারম্যান পদ না দিয়ে চূড়ান্ত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেছে বর্তমান স্বৈরাচারী সরকার। এর তীব্র নিন্দা করেছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁর কথায়, রাজ্য সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা বা জনবিরোধী কাজের যাতে বিরোধিতা না হয় তার জন্যেই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিধায়কদের গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে রাখা হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মোট ৪১টি স্ট্যান্ডিং ও হাউস কমিটি গঠিত হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (PAC)-র চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন কানাইয়ালাল আগরওয়াল। একে নজিরবিহীন 'গট-আপ' নাটক বলে অভিযোগ তৃণমূলের। স্পিকারের নীরব মদতে শাসকদল বিজেপি এবং তাদের বি-টিম বিরোধী দলের মধ্যে স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলি কার্যত ভাগ-বাঁটোয়ারা হয়ে গেল। পুলিশ ও প্রশাসনের কাজে নজরদারির দায়িত্ব থাকা কমিটিতে তৃণমূলের নাম করে যে চারজনকে রাখা হয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই আদ্যোপান্ত সরকারপন্থী। তৃণমূল বিধায়ক কুণালের অভিযোগ, উদ্দেশ্য স্পষ্ট, পুলিশের দলদাস রূপ এবং সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে যাতে কোনও প্রশ্ন না ওঠে। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর মুখে যাঁর বিরুদ্ধে আশি-নব্বইটি বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ শোনা গিয়েছিল, তাঁকেও এই হোম কমিটিতে বসিয়ে সরকার বুঝিয়ে দিয়েছে যে দুর্নীতিগ্রস্তদের রক্ষা করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ বিধায়ক আলিফা আহমেদকে জোর করে স্বনির্ভর গোষ্ঠী কমিটিতে পাঠিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, দক্ষতা নয়, শাসকদলের অঙ্গুলিহেলনে চলাই এখন একমাত্র মাপকাঠি। পাশাপাশি, নৌশাদকে স্ট্যাডিং কমিটিতে রাখাকে সমর্থন জানিয়ে কুণাল বলেন, তাঁকে আরও গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা যেত।
অরাজকতার পাশাপাশি রাজনীতিতে চরম বেইমানির প্রতীক হয়ে ওঠা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তীব্র ধিক্কার জানান তৃণমূল বিধায়ক। সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও চরম দুঃসময়ে যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পুনর্বাসন দিয়ে প্রাণরক্ষা করেছিলেন, আজ তাঁর পিঠেই নির্লজ্জের মতো ছুরি মারছেন এই নেতা। ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট কুড়োতে গিয়ে অকৃতজ্ঞতার যে নজির তিনি স্থাপন করলেন, তাঁকে আধুনিক বাংলায় 'বালিশ চাটা' রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।
















