ধর্মতলায় ছাত্র-যুবদের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই কিছুটা নমনীয় হল রাজ্য।। নিট-ইউজি কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে পথে নামা নিরীহ ছাত্রছাত্রীদের কণ্ঠরোধ করতে প্রশাসনের যে পুলিশি আস্ফালন দেখা গিয়েছিল, কিন্তু আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না সরকার।
নবান্নের তরফে নির্দেশিকা জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে আপাতত কোনও কড়া বা বলপ্রয়োগমূলক পদক্ষেপ করা হবে না। দেশের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষা-দুর্নীতির বিরুদ্ধে যখন গোটা দেশের ছাত্রসমাজ ফুঁসছে, তখন সেই ন্যায্য প্রতিবাদকে কালিমালিপ্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছিল প্রশাসন।
গত ২৬ জুলাই সন্ধ্যা পর্যন্ত নিট দুর্নীতির প্রতিবাদে গলা ফাটানো পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হয়েছিল রাজ্যের পুলিশ। তড়িঘড়ি দায়ের হয়েছিল এফআইআর, গ্রেফতার করা হয়েছিল ১৬ জনকে। মেধা ও শ্রমের অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নামা তরুণ প্রজন্মকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে একবারের জন্যও হাত কাঁপেনি পুলিশের। কিন্তু সেই ঔদ্ধত্যের আয়ু যে বেশিদিন টেকে না, তা আবারও প্রমাণ হয়ে গেল।
নবান্নের পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাফাই গাওয়া হয়েছে যে, ২৮ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের 'শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া' মামলার নির্দেশের ভিত্তিতে পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ, শীর্ষ আদালতের রক্তচক্ষু না থাকলে কি রাজ্য পুলিশ পড়ুয়াদের উপর নিজেদের বাহুবল প্রদর্শন চালিয়েই যেত? আজ এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে। বলা হচ্ছে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এ যেন কার্যত জনরোষের ভয়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করে নিয়ে পিঠ বাঁচানোর এক মরিয়া ও হাস্যকর চেষ্টা।
তবে প্রশাসনের এই কৃপাদৃষ্টির মধ্যেও লুকিয়ে রাখা হয়েছে এক অশুভ ইঙ্গিত। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যাঁদের অপরাধমূলক অতীত বা রেকর্ড রয়েছে, তাঁরা এই সুরক্ষার আওতার বাইরে থাকবেন।
















