বিহার, অসমের পর এবার বাংলাতেও NEET আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের পথে হাঁটবে রাজ্য সরকার? ঠিক এই প্রশ্ন যখন জোরালো হচ্ছে, তখনই জানা গেল কলকাতার ধর্মতলা চত্বরে বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় আটক ১৬ জনকে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অর্থাৎ একদিকে যখন বিহার-অসমের মতো ডবল ইঞ্জিন রাজ্য আন্দোলনকারীদের নিঃশর্ত মুক্তি দিচ্ছে, সুপ্রিম কোর্ট বলছে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি পশ্চিমবঙ্গে। আদৌ মামলা প্রত্যাহারের ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে স্পষ্ট ঘোষণা নেই রাজ্য সরকারের (Govt of West Bengal) তরফে।

প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির আন্দোলনের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা দেশে। গত ২৪ জুলাই কলকাতায় ধর্মতলা চত্বরে একটি মিছিল করা হয়। সেখানে বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগের ১৬ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার 'ককরোচ জনতা পার্টি'র তরফে বলা হয়, দেশের যে যে প্রান্তে আন্দোলনকারীদের আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। তা না হলে ফের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন তারা। আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে রুজু হওয়া সমস্ত এফআইআর খারিজ এবং ধৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির যে প্রতিশ্রুতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং দিয়েছিলেন, তা কেন্দ্রকে মনে করিয়ে দেন সিজেপি (CJP ) নেতৃত্ব। এরপরই দেখা যায় একে একে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকে মামলা প্রত্যাহারের খবর আসতে শুরু করে। বিহার, অসমের পর বাকি ছিল বাংলা। মঙ্গলবার সকাল থেকে কানাঘুষো শোনা যায় বাকি দুই রাজ্যের পথেই নাকি হাঁটতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। ইতিমধ্যেই ধৃত আন্দোলনকারীদের মুক্তি এবং এফআইআর বাতিলের প্রক্রিয়ায় শুরু হয়েছে বলেও বেশ কিছু জায়গায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু তারপরই দেখা যায় গ্রেফতার হওয়া ১৬ জনকে মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে তাঁদের জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করে সরকার। অন্য রাজ্যের পদক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে ধরেও লাভ হয়নি। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক।

কলকাতার মিছিলে অশান্তির প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) আগেই জানিয়েছিলেন, ধর্মতলার মিছিলে ইচ্ছাকৃতভাবে বাইরে থেকে লোক এনে গন্ডগোল পাকানো হয়েছিল। সেই মতো ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয় যারা কোনওভাবেই নিট আন্দোলনের অংশ নন বা সিজেপির প্রতিনিধিত্ব করছেন না। সাংবাদিকদের হেনস্থার ঘটনাতেও কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন বাংলার প্রশাসনিক প্রধান। তবে সোমবার সিজেপির সাংবাদিক বৈঠকের পর কেন্দ্রের তরফে নির্দেশিকা আসতেই নাকি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকে মামলা প্রত্যাহার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এদিন জানিয়েছে কোনভাবেই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে প্রয়োজনেই এফআইআর করে তদন্ত চলতে পারে। নাবালকদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। কিন্তু কলকাতার মিছিলে অশান্তির অভিযোগে ধৃতদের কারুর বয়স ১৮ বছরের নীচে নয়। ৬ জনের বিরুদ্ধে এবার অতীতেও অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ থেকেই এটা স্পষ্ট যে অন্যান্য ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে মামলা প্রত্যাহার করা হলেও শুভেন্দু অধিকারীর সরকার সম্ভবত এখনই সেই পথে হাঁটছে না।