শ্রাবণী মেলা শুরু হওয়ার আগে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, ভক্তদের কাছ থেকে কোনওরকম ট্যাক্স কিংবা চাঁদা নেওয়া যাবে না। কিন্তু শিবের মাথায় জল ঢালার লাইনে ‘বিশেষ সুবিধা’ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে পুণ্যার্থীদের পকেট কাটার অভিযোগ উঠেছে। আর এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ যত বাড়ছে, তত বেশি করে বেআব্রু হয়ে পড়ছে তথাকথিত ‘সনাতন ধর্মের রক্ষাকর্তা’ দাবিদার বিজেপির আসল রূপ।
পুণ্যার্থীদের অভিযোগ, ভক্তির এই পীঠস্থানকে কার্যত উপার্জনের আখড়া বানিয়ে ফেলা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে ভিআইপি সুবিধার নামে বৈষম্য তৈরি করা হচ্ছে। সাধারণ ভক্তদের যেখানে শিবের মাথায় জল ঢালার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, সেখানে টাকা খরচ করলেই কাউকে দাঁড়াতেই হচ্ছে না। এই বিশেষ সুবিধা পাওয়ার জন্য ২০০-৫০০ টাকার কুপন কাটতে হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন এখানেই, সেই টাকাগুলো দিয়ে হচ্ছেটা কী? কথায় কথায় হিন্দু আবেগ ও ঐতিহ্যের দোহাই দেয়, তারকেশ্বরের এই প্রকাশ্য তোলাবাজি ও অব্যবস্থা নিয়ে তারা আজ রহস্যজনকভাবে নীরব। ভোটে জেতার জন্য বা মেরুকরণের রাজনীতির জন্য যারা প্রতি মুহূর্তে ধর্মকে হাতিয়ার করে, তারা যখন সাধারণ ভক্তদের এই চরম হয়রানি চোখের সামনে দেখেও মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকে, তখন তাদের দ্বিচারিতা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে যায়।
















