ঘাসফুল চিহ্নে জয়ী হয়েও এখন এনসিপিআই-এর ব্যানারে বিজেপি শিবিরের কাছাকাছি! লোকসভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় নামের পাশে এখনও তৃণমূলের পরিচয় ব্যবহার করা নিয়ে দলত্যাগী ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলের মুখপাত্র তথা তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল সাফ জানিয়ে দিলেন, এই আচরণ শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই নয়, সাধারণ ভোটারের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।
কাকলি ঘোষদস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ২০ জন সাংসদের পদ খারিজের দাবি জানিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, যদি আলাদা দল করতেই হয়, তবে স্পিকার কেন নামের পাশে এআইটিসি ব্যবহার করতে দিচ্ছেন? লোকসভার খাতায় এনসিপিআই লেখা হোক। কুণালের অভিযোগ, বিজেপি এদের প্রকাশ্যে দলে নিতে চাইছে না, কারণ তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে তাদের স্বরূপ উন্মোচিত হয়ে যাবে। আর এই সাংসদরাও গিরগিটি বা বহুরূপীর মতো আচরণ করছেন।
তৃণমূল ছেড়ে জাতীয়তাবাদী এনসিপিআই-এ যোগ দিলেও লোকসভায় এখনও এই ২০ জন সাংসদকে তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসেবেই দেখাচ্ছে লোকসভার নথি। কারণ, বারংবার চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও তাঁদের এনসিপিআই-তে মিশে যাওয়ার আবেদনে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি স্পিকার। অথচ লোকসভায় আলাদা বসার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সম্প্রতি এনডিএ-র বৈঠকেও ডাক পেয়েছে এই নতুন গোষ্ঠী। এই দ্বিমুখী নীতি নিয়েই এদিন প্রশ্ন তোলেন কুণাল ঘোষ। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কুণাল বলেন, কোন দলে আছে এরা? এরা বেইমানি করেছে। বেইমানি করার জন্য এদের সাংসদ পদই অবিলম্বে বাতিল হওয়া উচিত। কোন লজ্জায় এরা বিজেপির নেতাদের বাড়িতে বৈঠক করছে, আবার নিজেদের এনসিপিআই সাংসদ বলেও দাবি করছে? একদিকে বিজেপির সঙ্গে মেলামেশা আর অন্যদিকে লোকসভায় বক্তব্যের সময় নামের পাশে তৃণমূলের পরিচয় ব্যবহার করা— এই খেলা আর কতদিন চলবে?
















