আমতলায় তাঁর কার্যালয়ে বুলডোজার চলতেই ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর কথায়, জেলা প্রশাসনের আধিকারিক, বিডিও, পুলিশ ও বিএলওদের পাশাপাশি গেরুয়া পতাকা হাতে, গেরুয়া ফেট্টি পরে এবং মুখ ঢেকে বিজেপির কর্মীরাও সেখানে ভাঙচুর চালিয়েছেন। অভিযোগ বলেন, ”পুরো ঘটনার ভিডিও আমাদের কাছে রয়েছে। সমস্ত প্রমাণ-সহ আমরা ইতিমধ্যেই ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে ই-মেল করেছি। প্রয়োজন হলে আমরা সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) পর্যন্ত যাব। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকেই আইনের হাত থেকে রেহাই দেওয়া হবে না। আইনের হাত অনেক লম্বা, বিচার হবেই।” তীব্র কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, ”বিজেপি (BJP) বুলডোজারের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। আগে ছিল অন্নপূর্ণা নিয়ে রাজনীতি, ভোটের পরে শুরু হয়েছে বুলডোজারের রাজনীতি। এটাই বিজেপির ভয় দেখানোর রাজনীতি।”

শনিবার, কালীঘাটে (Kalighat) দলনেত্রীর বাড়ির সামনে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে (Kunal Ghosh) পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি অভিষেক বলেন, “প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। একত্রিশে সুদে-অসলে জবাব হবে“। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কথায়, “যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস ভেঙে ফেলা নিয়ে উল্লাস করছেন এবং এটাকে ‘অবৈধ অফিস’ বলে প্রচার করছেন, তাঁদের কয়েকটি বিষয় মনে করিয়ে দিতে চাই। ১৫ জুলাই আমাদের শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। আমাদের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেই সময় আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কোন অভিযোগের ভিত্তিতে এই শুনানি হচ্ছে, সেই অভিযোগের কপিটি আমাদের দেওয়া হোক। কিন্তু প্রশাসন সেই নথি দেখাতেও পারেনি, দিতেও পারেনি। অথচ মাত্র দু'দিনের মধ্যে, আজ ১৮ জুলাই, বুলডোজার চালিয়ে পার্টি অফিসের প্রায় পুরো নীচতলা এবং প্রথম তলা ভেঙে ফেলা হয়েছে।“

অভিষেকের অভিযোগ, “জেলা প্রশাসনের আধিকারিক, বিডিও, পুলিশ ও বিএলওদের পাশাপাশি গেরুয়া পতাকা হাতে, গেরুয়া ফেট্টি পরে এবং মুখ ঢেকে বিজেপির কর্মীরাও সেখানে ভাঙচুর চালিয়েছে। পুরো ঘটনার ভিডিও আমাদের কাছে রয়েছে। সমস্ত প্রমাণ-সহ আমরা ইতিমধ্যেই ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে ই-মেল করেছি। প্রয়োজন হলে আমরা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাব। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকেই আইনের হাত থেকে রেহাই দেওয়া হবে না। আইনের হাত অনেক লম্বা, বিচার হবেই।“

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কথায়, “কোনও রাজনৈতিক দল যদি বেআইনিভাবে সরকারি জমি দখল করে পার্টি অফিস তৈরি করে, তাহলে সরকারের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সে বিষয়ে আমার কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু এই জমি সরকারি নয়, এটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি। আমাদের কাছে সমস্ত অনুমোদিত নকশা এবং বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। আমরা সব নথিই কলকাতা হাই কোর্টে জমা দেব।“

গেরুয়া শিবিরকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, ”বিজেপি বুলডোজারের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। আগে ছিল অন্নপূর্ণা নিয়ে রাজনীতি, ভোটের পরে শুরু হয়েছে বুলডোজারের রাজনীতি। এটাই বিজেপির ভয় দেখানোর রাজনীতি। কেউ যদি মনে করে পার্টি অফিস ভেঙে দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভয় দেখানো যাবে বা চুপ করানো যাবে, তাহলে তারা ভুল ভাবছে। এই ধরনের প্রতিটি পদক্ষেপ আমাদের আরও শক্তিশালী করবে।”

হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক বলেন, ”প্রত্যেকটি কাজেরই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে। আমি যদি বেঁচে থাকি এবং বিচার যদি হয়, তাহলে আজ যে আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে, সেই একই আইন একদিন এই ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধেই প্রয়োগ হবে। ভাঙচুরের সময় গেরুয়া ফেট্টি পরে এবং বিজেপির পতাকা হাতে বহু মানুষ অফিসের ভিতরে ঢুকেছে। আসবাবপত্র, বেসিন-সহ নানা জিনিস ভাঙচুর করা হয়েছে। আমি জানতে চাই, এই পরিস্থিতিতে যদি অফিসের ভিতরে কোনও কিছু রেখে দেওয়া হয়, তার দায়িত্ব কে নেবে? বিচারব্যবস্থার উপর আমাদের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমরা কলকাতা হাইকোর্টে যাব। প্রয়োজন হলে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়ে ভিডিওতে যাদের দেখা যাচ্ছে, প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করব।”