Site Logo

পাথরপ্রতিমায় ‘৫ প্রতিজ্ঞা’, তৃণমূলের জয়ের ব্যবধানের টার্গেট বাঁধলেন অভিষেক  

EBBS DESK·
পাথরপ্রতিমায় ‘৫ প্রতিজ্ঞা’, তৃণমূলের জয়ের ব্যবধানের টার্গেট বাঁধলেন অভিষেক  
কী কী উন্নয়নমূলক কাজ করেছে তৃণমূল সরকার, ভোটে জিতে ক্ষমতায় এসে আর কী কী কাজ করবে- ২৬-এর নির্বাচনের জন্যে প্রথম প্রচারসভা থেকে ৫ প্রতিজ্ঞা তুলে জানালেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মঙ্গলবার, পাথরপ্রতিমায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধানের টার্গেট বেঁধে দিলেন তৃণমূলের সেনাপতি।  এদিন কলেজ মাঠে তৃণমূল প্রার্থী সমীর কুমার জানার সমর্থনে প্রচার করেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)। বলেন, "এই নির্বাচন বিজেপিকে (BJP) শিক্ষা দেওয়ার নির্বাচন।" এর পরেই তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের জয়ের ব্যবধানের টার্গেট বেঁধে দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বলেন, "দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পাথরপ্রতিমাতে এবার জয়ের ব্যবধান বাড়াতে হবে। ৪০ হাজারের বেশি ব্য়বধানে জিততে হবে"।  পাথরপ্রতিমায় স্বাস্থ্য পরিষেবার সমস্যার কথা স্বীকার করে অভিষেক বলেন, ইতিমধ্যেই তৃণমূলের ইস্তেহার ১০ প্রতিজ্ঞার মধ্যে রয়েছে দুয়ারে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে আসবে রাজ্য সরকার। তাঁর নিজের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারকে সব সময়ই বেশি গুরুত্ব দেন অভিষেক। এদিন জনসভা থেকেও তিনি জানান, "প্রচার শুরু করেছি পাথরপ্রতিমায়, শেষ হবে ডায়মন্ডহারবারে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আরো বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসবে তৃণমূল। চতুর্থ বারের জন্য সরকার গড়তে চলেছে ঘাসফুল শিবির। অন্য দল প্রতিশ্রুতি দেয়, আমরা প্রতিজ্ঞা করি। তৃণমূলের ১০ প্রতিজ্ঞা রয়েছে। আমাদের প্রথম প্রতিজ্ঞা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। দ্বিতীয় প্রতিজ্ঞা, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সবাইকে পাকা ঘর করে দেবে সে সরকার টাকা দিক আর না দিক। মানুষের দুয়ারে দুয়ারে স্বাস্থ্যব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়া আমাদের তৃতীয় প্রতিজ্ঞা। প্রতি ব্লকে সেবাশ্রয় হবে। চতুর্থ প্রতিজ্ঞা, ঘরে ঘরে পরিশ্রুত পানীয় জল। পঞ্চম প্রতিজ্ঞা, ক্ষমতায় ফিরলে ৫ বছরের মধ্যে সব প্রবীণদের বার্ধক্য ভাতা। তৃণমূল চতুর্থবার ক্ষমতায় এলে ৩০ হাজার কোটি টাকার কৃষি বাজেট আনা হবে। কৃষকদের উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য।" পাঁচ প্রতিজ্ঞা,
  • লক্ষ্মীর ভাণ্ডার
  • সকলের মাথার উপর পাকা ছাদ, অর্থাৎ আবাস যোজনার বাড়ি
  • বিধানসভা কেন্দ্রের প্রত্যেক ব্লক, টাউনর বাসিন্দাদের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়া হবে চিকিৎসা
  • কেন্দ্র টাকা না দিলেও সব বাড়িতে পৌঁছে যাবে নলবাহিত পানীয় জল
  • বয়স্ক সকলকে বার্ধক্যভাতা
এদিন জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফের কেন্দ্রের বঞ্চনা ইস্যুতে সরব হন অভিষেক। বলেন, "গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা বেড়েছে। পাঁচ বছরের মধ্যে সবার জন্য পাকা বাড়ি দেওয়া হয়েছে। বিজেপি উন্নয়ন রিপোর্ট কার্ড দেখাতে পারেনি। বিজেপির কর্মীরা কেন রিপোর্ট কার্ড দেখাচ্ছে না। বিজেপি সরকার কি চারটে ছেলেরও কর্মসংস্থান করতে পেরেছে? বাংলার মানুষের ১০০ দিনের কাজের টাকা, আবাসের টাকা, রাস্তার টাকা এমনকি সর্বশিক্ষা মিশন ও পানীয় জলের প্রকল্পের টাকাও গায়ের জোরে আটকে রেখেছে মোদি সরকার। বিজেপিকে ৫০ এর নিচে এবার নামাব। এই নির্বাচন (Assembly Election) থেকে বিজেপিকে উৎখাত করব। বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে নিজের পায়ে কুড়ুল মারা। এদের ভোটের সময়ে দেখা যায়, বাকি সময়ে মানুষের সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ থাকে না। শুধু মুখে বড় বড় কথা। জেনে রাখুন, পদ্মফুলে দিলে ছাপ, ঘরে ঢুকবে কেউটে সাপ। পদ্মফুলের কাছ থেকে টাকা নেবেন, কিন্তু ভোট দেবেন জোড়া ফুলে। বিজেপি হরিয়ানা বা দিল্লিতে জিতলেও বাংলায় তারা জিততে পারবে না। কারণ বাংলার মানুষ কখনও বশ্যতা স্বীকার করে না।"  তৃণমূল সভাপতির অভিযোগ, "গরিবের টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র। আবাস প্রকল্প ও ১০০ দিনের টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র। তৃণমূলের আমলে পাথর প্রতিমায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আমরা যতদিন আছি কারও ভোটাধিকার কেড়ে নিতে পারবে না কেউ। অন্য দল প্রতিশ্রুতি দেয়, আমরা প্রতিজ্ঞা করি।" স্কুল, জেলা গঠন-সহ তৃণমূল কংগ্রেসের ইস্তেহারে থাকা বাকি প্রতিশ্রুতিগুলোর কথাও মনে করিয়ে তিনি বলেন, "স্বাধীনতার পর থেকে, ২০১১ পর্যন্ত পাথরপ্রতিমায় যা কাজ হয়েছে, ১৫ বছরে তার দশগুণ হয়েছে। গ্রামীণ হাসপাতাল নিয়ে এখানকার মানুষের অভিযোগ রয়েছে, চতুর্থবার সরকার গড়ার পর অগ্রাধিকার দিয়ে দেখা হবে। পাথরপ্রতিমায় বাস টার্মিনাসের দাবি রয়েছে, একটা সমীক্ষা করে সেটাও সম্ভব হলে করা হবে।" এরপরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সার প্রসঙ্গ তুলে অভিযোগ করেন, ''এসআইআর (SIR) তালিকায় নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্কে এই জেলাতেই ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে শুধু পাথরপ্রতিমা থেকেই রয়েছেন ২ জন। বিজেপির কাছে মানুষের জীবনের কোনো দাম নেই, কিন্তু আমাদের কাছে সাধারণ মানুষের জীবনের মূল্য মণিমুক্তোর মতো মূল্যবান।” আরও খবরঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে পড়েছে! নির্বাচন কমিশনের নোটিশে বিজেপির প্রতীক: তোপ দাগলেন মমতা প্রথম থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সভা ঘিরে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে উন্মাদনা ছিল নজর কাড়ার মত। বিগত কয়েক দিন ধরেই প্রতিটি বুথে ছিল সাজো সাজো রব। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলেছে। মঞ্চের উত্তর-পশ্চিম কোণে তৈরি করা হয় হেলিপ্যাড। সোমবার আকাশে একাধিকবার হেলিকপ্টারের মহড়া চলে। নিরাপত্তা ও লজিস্টিক ব্যবস্থার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখতেই এই ব্যবস্থাপনা। গোটা এলাকায় জোরদার করা হয় পুলিশি নজরদারি। তবে পাথরপ্রতিমার এই জনসভা থেকে স্পষ্ট আসন্ন নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা এবং বাংলার উন্নয়নকে হাতিয়ার করেই লড়াইয়ে নামছে ঘাসফুল শিবির। - - -

Sponsored

Sranchi In Article

Sponsored

Merlin In Article

Sponsored

Shyam Sundar In Article

Sponsored

Camelia In Article

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from শিরোনাম

View All →