Site Logo

মধুচন্দ্রিমায় ইতি! অনিকেতের অভিযোগে গোঁসা নাইয়ার

EBBS DESK·
মধুচন্দ্রিমায় ইতি! অনিকেতের অভিযোগে গোঁসা নাইয়ার

টাকা নয়-ছয়ের অভিযোগ, আইন মেনে কাজ না করার অভিযোগ জানিয়ে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের সভাপতি পদ ছেড়েছেন অনিকেত মাহাত (Aniket Mahato)। বৃহস্পতিবার, ইস্তফাপত্র দেওয়ার পরে শুক্রবার, সাংবাদিক বৈঠক করেন অনিকেত। সেখানে জেডিএফ-এর কাজ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। সিনিয়র রেসিডেন্সিয়াল পোস্ট নেবেন না বলেও জানান। আর অনিকেতের অভিযোগের পাল্টা আক্রমণ করেছেন ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের (WBJDF) আরেক নেতা আসফাকুল্লা নাইয়া (Asfaqullah Naiya)। একসময়ের সহযোদ্ধার বক্তব্যে ‘অপমানিত’ নাইয়া নিজের স্যোশাল মিডিয়া পোস্টেই (Social Media Post) পাল্টা আক্রমণ করেন।

Sponsored

Sranchi In Article

কারও বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অভিযোগ করেননি। তাঁর কথায় ক্ষোভ স্পষ্ট। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর তারপর সময় যত গড়াচ্ছে ততই ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের অন্দরের ফাটল চওড়া হচ্ছে। একসময়ের জোড়া সিদ্ধান্তে আসফাকুল্লা । সোশাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্টে সেকথাই উল্লেখ করেন তিনি।

Sponsored

Merlin In Article

আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক-পড়ুয়ার ধর্ষণ-খুনে বিচার দাবিতে গড়ে ওঠে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট। তবে, অভয়া আন্দোলনের নামে তোলা ফান্ড নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর মধ্যে আচমকা WBJDF-এর সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেন অন্যতম নেতা অনিকেত মাহাতো। সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়ে দিয়েছেন, সিনিয়র রেসিডেন্ট পদ নেবেন না। এর জন্য তাঁকে ৩০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। সেই টাকা জোগাড়ের সামর্থ্য তাঁর নেই। অনিকেত ক্রাউড ফান্ডিংয়ের আর্জি জানান। এই বিষয় নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট ও ভিডিও করেন অনিকেতের এক সময়ের সহযোদ্ধা আসফাকুল্লা, দীর্ঘ পোস্টে তিনি লেখেন, “যদি সত্যিই ছাড়তে হত, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নিজেরাই ৩০ লাখ তুলে ফেলতে পারতাম,ব্যক্তি স্বার্থে সাধারণের কাছে হাত পাতার মতো ডিসিশন নেওয়ার আগে বন্ধুকে, বন্ধুদের জানাতে পারতে, এটা অপমানিত করেছে, বন্ধুত্বকে, অপমানিত করেছে ডাক্তারি সামাজিক সত্ত্বাকে।”

Sponsored

Shyam Sundar In Article

শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে অনিকেত দাবি করেন পদ ছাড়লেও আসফাকুল্লা, দেবাশিসদের সঙ্গে সম্পর্ক একই থাকবে। আসফাকুল্লার লেখেন, “তোমার প্রতি সম্মান,তোমার মতামতের প্রতি সম্মান একই থাকবে, দ্বিমতও থাকবে।” তবে আসফাকুল্লা দীর্ঘ পোস্টে অভয়া ফান্ড প্রসঙ্গে কোনও শব্দ নেই।
তবে নাইয়া লেখেন, “জেনে রাখুন আর জি করে WBJDF তৈরির সময় প্রথম প্রস্তাবিত প্রেসিডেন্ট হিসাবে আমি ছিলাম, আমি সই করার পরেও নিজের নাম কেটে অনিকেত মাহাত দা কে যোগ্য মনে করে ওই পদে মনোনীত করেছিলাম স্বেচ্ছায়।
তাই অনিকেত দা ছাড়ায় আমারও বুক ফেটেছে তাই দীর্ঘ এই পোস্ট , ব্যক্তির উপরে উঠে ভাবনার সঙ্গে অসহমতি জানিয়ে এই পোস্ট । কেনোনা প্রথমবার খোলাখুলি অনিকেত দা কে অন্যরকম দেখেছি ,দেখে অবাক হয়েছি,কষ্ট পেয়েছি ।
ছেড়ে যাওয়া সোজা,শত ঝড় ঝঞ্ঝাতে আঁকড়ে
রাখার নাম ভালোবাসা,
অনেক কবি,সাহিত্যিক,সমাজ সচেতক,আর্টিস্ট ,ধার্মিক ,অনেক কাছের মানুষ দের দেখেছি ছেড়ে যেতে , কষ্ট দেয় ।
তুমি,আমি বা অন্যকেউ মিছিলের মুখ হিসাবে অবশ্যই ইম্পর্টান্ট কিন্তু মিছিলের শেষে ৭০ বছর বয়সী দিদিমার থেকে এক চুল বেশি নয়,কদিন আগে নিজের কানে শুনলাম অযোধ্যা পাহাড়ের কোলে শীতের রাতে বস্তা গায়ে দিয়ে "উই ওয়ান্ট জাস্টিস" বলা বাচ্চার থেকে একফোটাও বেশি নয় ।আমরা সবাই এক এক সৈনিক অভয়া পক্ষের একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ওপরপ্রান্তে শাসকতন্ত্র এবং তাঁর অসম ক্ষমতা ।
পোস্টিং ছাড়ার প্রসঙ্গে একমত নই, এটা চাকরি নয়,চাকরি হলে কোর্টে যেতাম  না, টাকা খরচ করে তোমাকে জেতানোর চেষ্টাও করতামনা, এক্ষেত্রে মেধা ভিত্তিক কাউন্সেলিংয়ের মান্যতা প্রতিষ্ঠা করার যুদ্ধ ছিলো,একজনের পোস্টিং সিকিওর করার যুদ্ধে নামিয়ে আনা ঠিক হলনা । চাকরির ব্যাপার হলে জিততে পারতামনা এটা কেউ না জানলেও তুমি ভালো করেই জানো ।
বন্ড পোস্টিং মধ্য,নিম্ন বৃত্ত ঘরের ছেলেদের,জনগণের টাকায় পড়ে তিন বছর জনগণকে সেবা দেওয়ার প্রমিস,এক্ষেত্রে জনগণকে সেবা দেওয়াই দায়ীত্ব,ভবিষ্যত প্রজন্ম আমাদের দেখে শিখুক,দায়ীত্ব পালনে আমরা কতটা বদ্ধ পরিকর । মিডিয়া ডেকে ঘোষণা করে প্রতিহিংসার জবাবে জনগণকে পরিষেবার
প্রতিজ্ঞা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে দেখো ।
যদি সত্যিই ছাড়তে হত,নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নিজেরাই ৩০ লাখ তুলে ফেলতে পারতাম,ব্যক্তি স্বার্থে সাধারণের কাছে হাত পাতার মত ডিসিশন নেওয়ার আগে বন্ধুকে ,বন্ধুদের জানাতে পারতে ,এটা অপমানিত করেছে,বন্ধুত্বকে,অপমানিত করেছে ডাক্তারি সামাজিক সত্ত্বাকে ।
ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে যারা বাহবা দিচ্ছেন ,তাঁদের বলবো এটা উৎসাহ দেওয়ার মত পদক্ষেপ নয়,প্রত্যন্ত গরীব,প্রান্তিক মানুষের এখনও ভরসা সরকারি হাসপাতাল,আর যদি ছেড়েই যেতে হত, তাহলে আইনি খরচ বাঁচিয়ে রাখা যেত,ঘোষণা দেওয়ার মত কিছু নয়,হাজার হাজার ডাক্তার সরকারি চাকরি করে কিংবা না করেও মানব সেবা করেন প্রতিনিয়ত ।তাই সেবা করার জন্য সরকারি ব্যবস্থায় না থাকার বিষয়টি বিকৃত ভাবে তুলে ধরবেন না,বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হিসাবে সরকারি ব্যবস্থায় থাকাটাই কঠিন এবং গর্বের,ছাড়াটা নয় ।
সরকারি ব্যবস্থা আমাদেরই সম্পদ এটাকে বাঁচাতে আমাদের বদ্ধ পরিকর হওয়া জরুরি,
কোনও লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার পিছনে যে লক্ষ মানুষের ত্যাগ থাকে সেটা নিজের জয় কিংবা পরাজয় হিসাবে দেখানো মোটেও পসিটিভ নয় ।
এই আন্দোলনে,আমি এবং আমার মত
অনেকজন তো WBJDF ট্রাস্টি বোর্ডের মেম্বার পর্যন্তও ছিলামনা,তাও অনেক গালি,অনেক ঝড় ঝঞ্ঝা মাথায় নিয়ে আমরা এগিয়েছি, ভবিষ্যতে এগিয়ে যাবো ।
মতের অমিল হলেও,জনমানসে কারও একফোঁটা ত্যাগকে ছোট করার আগে আমাদের সচেতন হওয়া জরুরি বলে মনে করি ।তোমার প্রতি সম্মান,তোমার মতামতের প্রতি সম্মান একই থাকবে,দ্বিমত ও থাকবে,
আমার মত হাজার মানুষের,কোনও পদ ছিলোনা,বুকে সাহস ছিলো,অগণিত মানুষের আশীর্বাদ ছিলো,শক্ত কাঁধ ছিলো....আছে....থাকবে ।“

Sponsored

Camelia In Article

-

Sponsored

Techno India In Article

-

Sponsored

Probe In Article

-

-

-

Related Articles

More from শিরোনাম

View All →