তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত ১৫ বছরে ভোটার আইডি কার্ড ও অন্যান্য নথির ভিত্তিতে ইস্যু হওয়া সমস্ত কাস্ট সার্টিফিকেট বা জাতিগত শংসাপত্র একযোগে যাচাই করার সরকারি পদক্ষেপের উপর অন্তবর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে প্রাথমিক পর্যালোচনায় মনে হচ্ছে সাব ডিভিশনাল অফিসারদের একটি বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই নির্দেশ জারি হয়েছিল। কিন্তু আইন শংসাপত্র বাতিল বা প্রত্যাহারের যে পদ্ধতি নির্দিষ্ট করেছে তার বাইরে গিয়ে প্রশাসনিক আদেশের নতুন কোনও ভিত্তি তৈরি করা যায় না।
এদিন রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল বলেন ২০১১ থেকে ভোটার কার্ডে তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া কাস্ট সার্টিফিকেটের নথি পুনরায় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে এসআইআর প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। উল্টোদিকে সিপিএম নেতা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের জোরালো সওয়াল ছিল, কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া একযোগে ২০১১ থেকে বিলি হওয়ার সব শংসাপত্র এভাবে কাঠগড়ায় তোলার একটি আর সরকারের নেই। এতে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হবে। আইনসম্মত উপায়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যাচাই করা যেতেই পারে। উভয় পক্ষের সওয়াল শোনার পর আদালত জানায়, ভোটার তালিকায় নাম না থাকা মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জাতিগত শংসাপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে আইনে এমন কোনও বিধান নেই। প্রতিটা ক্ষেত্রে নিয়ম ও প্রক্রিয়া মেনেই পদক্ষেপ করা হবে। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি মেমোর কার্যকারিতা স্থগিত রাখার ঘোষণা করা হয়।
















