সিংঘম আই এস অফিসার খেলেন জোর ধাক্কা। একের পর এক ফতোয়া জারি করে মহারাষ্ট্রে ইতিমধ্যে খবরে শীর্ষ চলে এসেছেন ফুড এন্ড ড্র্যাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কমিশনার তুকারাম মুন্ডে। সম্প্রতিক তাঁর একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে বোম্বে হাই কোর্ট এতটাই রুষ্ঠ হয়েছে যে বলেছে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

মুম্বাইয়ের রেস্তোরাঁগুলি স্বাস্থ্যবিধি না মানায় একের পর এক ফতোয়া জারি করেছেন তুকারাম। চা থেকে শুরু করে নানান আমিষ, নিরামিষ খাবারে স্বাস্থ্যবিধি না মানার জন্য একের পর এক রেস্তোরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড করেছেন। কিন্তু মুম্বাই ক্রিকেট এসোসিয়েশন অর্থাৎ এমসিএর বিকেসি কমপ্লেক্স-এর লাইসেন্স নিয়ে তুকারামের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ঢেকে রাখেনি বিচারপতিরা। তুকারামের নেতৃত্বে অভিযান চালানোর পর লাইসেন্স বাতিল করা হয় কোর্ট আবার সেই সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিয়েছে। বিচারপতিদের বক্তব্য, খাদ্য দফতরের কর্তারা শুধু নিয়মের ফাঁসে আটকে রয়েছেন বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে ব্যার্থ হয়েছেন। রেড আর লাইসেন্স সাসপেন্ড করে খবরে আসতে চাইছেন। মামলার শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ঘুগে ও বিচারপতি গৌতম আনখাদের ডিভোশন বেঞ্চ তুকারামের সিদ্ধান্ত বাতিল করে কড়া বার্তা দিয়েছেন। বিচারপতিরা রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুরে বলেছেন অফিসাররা যেন মশা মারতে কামানের ব্যবহার না করেন। কোনো কোনো অফিসার নিজেদেরকে ঈশ্বর ভাবছেন, এইসব রঙিন জীবন থেকে বেরিয়ে আসুন এবং বাস্তবের মাটিতে ফিরে আসুন। প্রশাসনের এই রকম খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে হবে আর যদি যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যা দিতে ব্যার্থ হয় তাহলে জেলে পাঠাতেও কুন্ঠা বোধ করবে না।

শুধু এবারেই নয় এর আগে একটি মামলায় তুকারামকে বিচারপতিরা বলেছিলেন, বেসরকারি রেস্তোরাঁর ওপর আপনার দাদাগিরি চালাচ্ছেন ক্ষমতা আছে সরকারি বেআইনি রেস্তোরাঁর ওপর অভিযান চালানোর। এরপরেই তুকারাম সদলবলে হাইকোর্টের ক্যান্টিনে অভিযান চালিয়ে তা সিল করে দেন। কেউ কেউ বলছেন প্রচারের আলোয় থাকতে থাকতে তুকারাম নিজেকে আইনের উর্দ্ধে ভাবতে শুরু করেছেন। এবার সেই উত্থানেই ব্রেক কষে দিলেন বোম্বে হাইকোর্টের বিচারপতিরা।

 উল্লেখ্য, তুকারাম তাঁর ২২বছরের চাকরি জীবনে ২৮বার বদলি হয়েছেন।