২০২২-২৩ অর্থবছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কেন্দ্রীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলি (CAB) তাদের জন্য বরাদ্দকৃত অনুদানের ৪,৫৫৩.৮৫ কোটি টাকা ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে এক বিস্ফোরক রিপোর্টে জানিয়েছে ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহাহিসাব নিরীক্ষক বা ক্যাগ। অব্যবহৃত অনুদানের অঙ্কের নিরিখে দেশের সমস্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে সম্প্রতি বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংসদে পেশ করা ক্যাগের রিপোর্টে অর্থ অব্যবহার ও আর্থিক অনিয়মের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
শিক্ষামন্ত্রকের অধীনে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের রিপোর্ট প্রকাশ ক্যাগের
Sponsored

ক্যাগের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাকে দেওয়া মোট অনুদানের পরিমাণ ছিল ১,১৩,০১২ কোটি টাকা, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৮.৪৩ শতাংশ বরাদ্দ ছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য। কিন্তু বরাদ্দকৃত ৫৪,৭৩২.১৬ কোটি টাকার অনুদানের মধ্যে ৪,৫৫৩.৮৫ কোটি টাকাই অব্যবহৃত রয়ে যায়। সমগ্র অর্থবছর শেষে দেশের সব মন্ত্রণালয় মিলিয়ে মোট অব্যবহৃত ১২,৪৬৪.২২ কোটি টাকার অনুদানের মধ্যে এককভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবদানই ৩৩.৮২ শতাংশ। বর্তমানে এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৯৮টি স্থানীয় বা কেন্দ্রীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা রয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারে ব্যর্থতার পাশাপাশি যোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে স্বীকৃতি (অ্যাক্রেডিটেশন) না দেওয়ার জন্য ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল বা ‘ন্যাক’-কেও কড়া সমালোচনা করেছে ক্যাগ।
রিপোর্টে দেখা গেছে, ২০২২ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত দেশের মাত্র ৩১.৯২ শতাংশ উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ন্যাক কর্তৃক স্বীকৃত ছিল। অথচ আবেদনের যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও ৭৬.২২ শতাংশ কলেজ এবং ৫৬.২৬ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় তখনও মূল্যায়নের বাইরে থেকে গিয়েছিল। এছাড়া বিভিন্ন শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে নিয়মবহির্ভূত অর্থ বরাদ্দের একাধিক অনিয়ম তুলে ধরেছে ক্যাগ। ‘নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, কোকরাঝাড়ের সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, আইআইটি-গুয়াহাটি এবং আইআইটি-বম্বে ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তাদের শিক্ষকদের ল্যাপটপ, ডেক্সটপ, ট্যাবলেট বা নোটবুক কেনার জন্য ‘কিউমুলেটিভ প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যালাউন্স’ থেকে টাকা পরিশোধ করেছে, যা নিয়মবিরুদ্ধ। ক্যাগের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গান্দারবালের সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অফ কাশ্মীর তাদের নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে অনিয়ম করে লিভ এনক্যাশমেন্ট (ছুটি নগদীকরণ) বাবদ অর্থ মেটানোর ফলে সরকারের ৭৬.৩১ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













