বাংলায় বিজেপি সরকারের (BJP Government) তিন মাস পূর্ণ হতে না হতে রাজ্যজুড়ে পদ্মদলের নেতা-কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে বিধায়কদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি আর তোলাবাজির একাধিক অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। এবার কাঠগড়ায় বিজেপি বিধায়িকা রেখা পাত্র (Rekha Patra)। হিঙ্গলগঞ্জে স্বামী কেশবানন্দ মহারাজের (Keshabananda Maharaj) প্রায় ৪ বিঘা জমির উপর তৈরি বাড়ি - পুকুর জবরদখলের অভিযোগ পদ্মনেত্রীর বিরুদ্ধে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটের প্রচারে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের লেবুখালিতে বিজেপি সমর্থক কেশবানন্দের বাড়ির ১২টি ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন রেখা। মাত্র দু মাস ভাড়া দিলেও তারপর থেকে সব বন্ধ। ভোটে জেতার পর থেকে ভাড়া টাকা না দিয়ে বাড়ির মালিককে চিনতে অস্বীকার করার অভিযোগ উঠেছে বিধায়িকার বিরুদ্ধে! সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) 'জনতার দরবার' কর্মসূচিতে গিয়ে গোটা বিষয়টি জানিয়েছেন কেশবানন্দ।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিজেপি সরকার যতই 'জিরো টলারেন্স নীতি'র কথা বলুক না কেন বাস্তবে যে তার কোনও প্রয়োগ নেই তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। কেশবানন্দ মহারাজের অভিযোগ, মার্চ মাস থেকে ওই বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়। কিন্তু এত মাস হয়ে গেলেও এখনও অবধি মাত্র দু’মাসের ভাড়া দেওয়া হয়েছে! ভোটে জিতে বিধায়ক হয়েছেন রেখা। নির্বাচন মিটে গেলেও তিনি ওই বাড়ি ছাড়ছেন না। অভিযোগকারী বলেন, "আমি বিজেপির সমর্থক। তাই ওনাকে বাড়িটা দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রথম দু’মাস, মার্চ-এপ্রিল ভাড়া দেওয়ার পর, ৩ মাস হয়ে গেল আর কোনও ভাড়া দেননি। বাড়িটা ১ কোটি ২৫ লাখ টাকায় কেনার কথা ছিল, কিন্তু সেটাও কিনছেন না। ভাড়াও দিচ্ছেন না। উলটে দুর্ব্যবহার করছেন। তাই সমাধানের আশায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এসেছি।" এখন প্রশ্ন হচ্ছে রেখা পাত্র ভোটের নমিনেশন জমা দেওয়ার সময় তিনি উল্লেখ করেছিলেন তার এবং তার স্বামীর ব্যাংক একাউন্টে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা রয়েছে। তাহলে তিন মাসের মধ্যে কী এমন জাদু তিনি আবিষ্কার করলেন যে ১.২৫ কোটি টাকা দিয়ে একটি বাড়ি কিনবেন বলে কথা দিয়েছিলেন মহারাজকে।
এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রেখা পাত্র জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি কয়েক মাস বিধানসভায় যেতে পারেননি বলে তাঁর মাইনে আসেনি। টাকা পেলেই নাকি তিনি সব ভাড়া মিটিয়ে দেবেন।
















