গণহারে শিক্ষকদের জনগণনার কাজে (Census) নিযুক্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য। কিন্তু এভাবে চললে স্কুলের ক্লাসগুলোর কী হবে? আদৌ কি দুটো কাজের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব? এবার সেই প্রশ্নই তুলল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) । বিদ্যালয় পঠন-পাঠনের পাশাপাশি সেন্সাসের কাজের মধ্যে শিক্ষক শিক্ষিকারা যাতে সমতা বজায় রাখতে পারেন তার জন্য কি কি পরিকল্পনা করা হয়েছে জানতে চেয়ে রাজ্যের কাছে জবাব তলব আদালতের। পাশাপাশি শিক্ষকদের ঢালাও নির্দেশ না দিয়ে পরিস্থিতি বুঝে দায়িত্ব বন্টন করার কথাও জানানো হয়েছে।
শিক্ষকরা জনগণনা করলে ক্লাস চলবে কী করে, প্রশ্ন হাইকোর্টের
Sponsored

রাজ্যে চলছে জনগণনা। আগামী ১৫ তারিখ পর্যন্ত সেল্ফ এনুমারেশন পর্ব চলবে। তারপর বাড়ি বাড়ি যাবেন সরকারি কর্মীরা। শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরদের এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কাজের সময়ে যদি জনগণনার কাজে ব্যস্ত থাকতে হয় তাহলে স্কুলের পঠন-পাঠন তো স্তব্ধ হয়ে যাবে। শুক্রবার শুনানিতে শিক্ষকদের তরফে জানানো হয়, তাঁরা জনগণনার দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত, তবে সেই কাজকে প্রশাসনিক ভাবে ‘অন ডিউটি’ হিসেবে গণ্য করতে হবে। আদালত এ দিন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছে। বাস্তব পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বিচারপতি বলেন, বিকেল ৪টেয় স্কুল ছুটির পর শিক্ষকদের বাড়ি ফিরতে হয়। জনগণনার কাজের জায়গা যদি বিদ্যালয় থেকে দূরে হয়, তবে ক্লাসের ডিউটি শেষে নির্ধারিত সময়ে সেখানে পৌঁছানো শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পক্ষে যথেষ্ট সমস্যা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে রোটেশন পদ্ধতিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাজে লাগানো যায় কিনা সে প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছে আদালত।শুনানিতে শিক্ষাধিকার আইন বা ‘রাইট টু এডুকেশন’ (RTE)-এর বিধানের প্রসঙ্গও তোলা হয়।
এদিন আদালতের তরফে বলা হয়েছে বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। সেক্ষেত্রে অর্ধদিবস স্কুল করে সেন্সাস এর কাজ করা কিংবা নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষক বেছে নেওয়া যেতে পারে যাতে পড়াশোনা আর আদমশুমারির কাজের মধ্যে সমতা বজায় থাকে। রাজ্য জানিয়েছে প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত এই বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হবে। আগামী মঙ্গলবার অর্থাৎ ১৮ অগাস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













