ইতিমধ্যেই কমপক্ষে ২০ সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। তাঁরা সমর্থন করছেন কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) সরকারকে। এবার বিধানসভাতেও কি একই চিত্র দেখা যাবে? ইতিমধ্যেই বিধানসভায় দুই শিবিরে ভাগ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল (TMC) -মমতাপন্থী ও ঋতব্রতপন্থী। কলকাতায় এসে ঋতব্রত শিবিরকে ভাঙার ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী রামদাস আঠাওয়ালে (Ramdas Athawale)। এনডিএ শরিক RPI(A) নেতা রামদাস জানান, তৃণমূলের মোট ৩৬ বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। তার মধ্যে ৩৫ জনই ঋতব্রত শিবিরের বলে দাবি কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর।
কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী আঠাওয়ালে। এবার বাংলাতেও নিজেদের সংগঠন মজবুত করার উদ্দেশ্যে শুক্রবার সল্টলেকে নতুন দফতরের উদ্বোধন করলেন আরপিআই(এ) নেতা রামদাস। আর সেই অনুষ্ঠানেই তিনি দাবি করেন, শুধু ৩৬ বিধায়কই নন, পাঁচ তৃণমূল সাংসদও তাঁদের দলে যোগ দেওয়ার জন্য যোগাযোগ রাখছেন। তাঁর কথায়, "আমাদের সঙ্গে তৃণমূলের ৩৬ বিধায়ক যোগাযোগ রেখেছেন। ২ জন বিধায়ক দেখাও করে গিয়েছেন, সব মিলিয়ে মোট ৩৬ জন আসবেন। আমরা আরও ১০ জন চাইছি। আমরা সবাই মিলে বিজেপির সঙ্গে সহযোগিতা করব।" ৫ জন সাংসদও যোগাযোগ রেখেছেন বলে দাবি করেন আঠাওয়ালে।
রাজ্যে পালাবদলের পরেই তৃণমূলের প্রতীক, নাম এবং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার করে ভোটে জেতা ২০ সাংসদ দলবদল করে একেবারেই অজানা একটি রাজনৈতিক দল এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দিয়েছেন। সেই ২০ সাংসদ যাঁরা ভোটের সময় বিজেপির বিরোধিতা করে ভোট চেয়ে সংসদে গিয়েছেন, তাঁরা কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেই সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে বিধানসভাতেও মমতাশিবির ছেড়ে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) শিবিরের নাম লিখিয়েছেন ৬০-এর বেশি বিধায়ক। বিজেপির (BJP) 'বি টিম' বলে তাঁদের দিকে আঙুল তুলেছেন মমতাপন্থীরা। এই পরিস্থিতিতে ফের ভাঙনের ইঙ্গিত। ৩৬ বিধায়ক তৃণমূল শিবির একেবারেই ত্যাগ করে সরাসরি বিজেপির জোট সঙ্গীর শিবিরে যোগ দিতেন পারেন বলে জল্পনা।
আঠওয়ালের কথায়, ৩৬ জনের সঙ্গে আরও ১০ জন বিধায়কের সমর্থন পেলে ঋতব্রত শিবিরের দুই তৃতীয়াংশ বিধায়ক তাঁদের দলে আসবেন৷ সেক্ষেত্রে দলত্যাগ বিরোধী আইনের কোপে আর পড়তে হবে না ওই বিধায়কদের৷ সেই কারণেই একবারে ৪৬ জন বিধায়ককেই তাঁদের দলে চাইছেন আরপিআই(এ)৷ তাহলে কি এবার আসল তৃণমূল বলে দাবি করা ঋতব্রত শিবিরও ভাঙনে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে? জল্পনা রাজনৈতিক মহলে।
















