রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ডিলিমিটেশন? কলকাতা পুরসভার প্রস্তাবিত ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে অবিলম্বে সর্বদলীয় বৈঠক এবং এলাকাভিত্তিক জনশুনানির দাবি জানালেন তৃণমূল (TMC) বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। বুধবার কলকাতা পুরসভায় স্মারকলিপি জমা দিয়ে এই দাবি জানানো হয়। সঙ্গে ছিলেন বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, রত্না শূর-সহ অন্যান্যরা।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ডিলিমিটেশন? কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক-জনশুনানির দাবি কুণালের
বুধবার কলকাতা পুরসভায় স্মারকলিপি জমা দিয়ে এই দাবি জানানো হয়। সঙ্গে ছিলেন বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, রত্না শূর-সহ অন্যান্যরা।
Sponsored

স্মারকলিপি জমা দিয়ে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কুণাল বলেন, “ডিলিমিটেশন (Delimitation) নিশ্চয়ই একটা সময়ের দাবি। কিন্তু তার পদ্ধতিগত এমন কিছু ফাঁক থেকে যাচ্ছে, যেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকছে। এর সঙ্গে নাগরিকদের পরিষেবা, নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা, তাঁদের অবস্থান এবং এলাকার নানা সমীকরণ জড়িত।”
তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগ, কলকাতার ডিলিমিটেশন নিয়ে একটি খসড়া ঘুরে বেড়ালেও তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে যথাযথভাবে আলোচনা করা হয়নি। কুণালের স্পষ্ট দাবি, “অবিলম্বে অল পার্টি মিটিং ডিলিমিটেশন নিয়ে কলকাতা কর্পোরেশনে ডাকতে হবে।”
শুধু রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের নয়, বৈঠকে নির্বাচিত ও বিদায়ী কাউন্সিলর, বিধায়ক এবং ত্রিস্তরীয় জনপ্রতিনিধিদেরও মতামত নেওয়ার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি, যে সমস্ত এলাকা, বুথ বা পার্টে ডিলিমিটেশনের কারণে পরিবর্তন হচ্ছে, সেই সমস্ত এলাকার বাসিন্দাদের জন্য জনশুনানির ব্যবস্থা করার কথাও বলেন কুণাল।
পুর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে কুণাল জানান, তাঁদের স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কর্পোরেশনের (KMC) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনগতভাবে সরাসরি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার অধিকার পুরসভার নেই। সেই কারণে আরবান ডেভেলপমেন্ট দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি বা অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের কাছেও তাঁরা বিষয়টি জানাবেন বলে জানান তিনি।
কুণাল ঘোষ জানান, “ম্যাডাম আমাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন। আমরা যে টেকনিক্যাল সমস্যাগুলির কথা বলেছি, আইনি সমস্যার কথাও বলেছি। কিন্তু তিনি বলেছেন, এইভাবে মিটিং ডাকার অধিকার কর্পোরেশনের সরাসরি নেই। সেই কারণে নগরোন্নয়ন দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে যদি একটা চিঠি দেওয়া যায়, তাহলে আমরা আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) জানিয়ে সেই প্রসেসটাও তাঁদের জানাব।”
ডিলিমিটেশনের যে খসড়া বর্তমানে ঘুরছে, সেটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় বলেও পুর কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে বলে দাবি করেন কুণাল। তাঁর কথায়, “এই ড্রাফটাই শেষ কথা নয়। এটা কাজ এগিয়ে রাখার জন্য প্রাথমিকভাবে করা হয়েছে। এরপর আপত্তি জানানোর শেষ তারিখ আছে। তারপর এটা চূড়ান্ত হওয়ার দিকে গেলে আরও যা যা ক্লেম, যা যা অবজেকশন, তার একটা ব্যবস্থা হবে।”
তবে কুণালের মতে, শুধু লিখিত আপত্তি জানানোর সুযোগ যথেষ্ট নয়। সাধারণ মানুষ এবং সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি বক্তব্য রাখার সুযোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, “যে যে এলাকা চেঞ্জ হচ্ছে, যে যে বুথ বা পার্টে চেঞ্জ হচ্ছে, সেখানে একটা জনশুনানির সুযোগ দেওয়া দরকার।”
সম্ভাব্য পুরসভা নির্বাচন নিয়েও সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে কলকাতা-সহ অন্যান্য পুরসভাগুলির নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু অগাস্ট মাস চলছে, এরপর সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পুজোর সময় এবং সরকারি কর্মীদের ছুটি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিস্তারিত স্ক্রুটিনি, দাবি-আপত্তি এবং শুনানির প্রক্রিয়া শেষ করে নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করা কতটা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
কুণাল বলেন, “এটা আমার বলে নয় বা আমাদের দলের বলে নয়। আপনি মানুষকে তো সেই সুযোগটা দেবেন। আমি একটা ঠিকানায় থাকি। আমি এই দিক থেকে অন্য জায়গায় চলে গেলাম। তাহলে আমার একটা মৌলিক অধিকার থাকছে যে, তার ব্যাপারে আমি অন্তত কথাটা প্রশাসনের সামনে বলব।”
ডিলিমিটেশনের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার না করেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে তাড়াহুড়ো করে সীমানা পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কুণাল। তিনি বলেন, “ডিলিমিটেশন কেউ বারণ করছে না। কোথাও প্রচুর মানুষ ভোটার, কোথাও খুব কম ভোটার—সময়ের দাবিতে ডিলিমিটেশন একটা জিনিস। কিন্তু ডিলিমিটেশন করার নামে তাড়াহুড়ো করে রাজনৈতিকভাবে যদি করা হয়, কোনও রাজনৈতিক দলের সুবিধার জন্য যদি করা হয়, তাহলে সেখানে বাকি জনপ্রতিনিধি বা সব দলের মতামত এবং বিশেষ করে যে বুথ বা পার্টের সীমানা পরিবর্তন হচ্ছে, তাঁদের গণশুনানির সুযোগ দেওয়া উচিত।”
কুণাল আরও জানান, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির কাছে ডিলিমিটেশন নিয়ে নানা অভিযোগ, আশঙ্কা এবং সমস্যার কথা এসেছে। তাঁর প্রশ্ন, “মানুষ যা যা আশঙ্কা করছে বা যে সমস্যার কথা বলছে, সেগুলো না শুনে কী করে ডিলিমিটেশন হয়?”
শেষে কুণাল জানান, কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার আইনি ক্ষমতা না থাকার কথা জানানো হলেও তাঁরা তাঁদের দাবি থেকে সরে আসছেন না। নগরোন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের কাছে ফের তাঁদের দাবিগুলি তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

More from শিরোনাম
View All →
লেজার আলোয় দিক হারিয়ে মাঝ আকাশে চক্কর পাইলটের! বিপদ এড়িয়ে অবতরণ কলকাতা বিমানবন্দরে
3d ago

জেলা থেকে শহর, রাজ্যের সব সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে নীরবতা পালনে অভয়া- স্মরণ
3d ago

এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে যোগা করার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর, সকলকে সমান গুরুত্বের আশ্বাস
5d ago

সংসদে দেখা নেই প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, তৃণমূলের প্রশ্নবাণে অস্বস্তিতে বিজেপি সরকার
5d ago

বিচারপতি নিয়োগে বিজেপির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুললেন মেনকা
5d ago







