যন্তর মন্তরের ঘটনা থেকে মোদি-শাহের বিজেপি শিক্ষা নিয়েছে ভেবে থাকলে ভুল হবে দেশবাসীর। আসলে শাসক হিসাবে ধাক্কা খাওয়ার পর গোটা বিজেপি (BJP ) পরিবার এখন ভিতর ভিতর জ্বলছে। ছোবল মারার জন্য যেন সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। তাই চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়ে শুক্রবার রাতে নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) ফেসবুকে ২মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের রিলসে বললেন, যন্তর-মন্তরে যা হয়েছে, তা গোটা পৃথিবী দেখেছে। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী ঘটনাকে সরাসরি কলঙ্কজনক না বলে বুঝিয়ে দিয়েছেন, ওই ঘটনায় দেশ লজ্জিত হয়েছে। আর অভিজিৎ দীপকে সৌরভ দাসেদের বললেন, দুষ্টু-বদমায়েশ বাচ্চা, যারা পথভ্রষ্ট এবং বিপথগামী! রুমাল থেকে বিড়াল বেরিয়ে আসছে।
নিটের প্রশ্ন ফাঁস কেলেঙ্কারিতে লজ্জা নেই। দেশ জুড়ে প্রতি মাসে একটি করে পেপার লিকে এতটুকু অপরাধবোধ নেই। ছাত্রদের পুলিশ দিয়ে পেটানোয় গ্লানি নেই। পুলিশ আর বাহিনীর পোশাক পরে আরএসএস-বিজেপির ঠ্যাঙাড়ে বাহিনীর অত্যাচারের জন্য এতটুকু অনুতাপ নেই। ছাত্রীদের যেভাবে মারধর করে পুলিশ শ্লীলতাহানি করেছে, তারজন্য এতটুকু পাপবোধ নেই। গুলি কিংবা ছররা গুলি পড়ুয়াদের উপর চালানোর পরেও কীরকম নির্বিকার ভঙ্গিতে পড়ুয়াদের বন্ধু বলে সম্বোধন করছেন, এবং বলছেন, চাইলেই তোমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারতাম। কিন্তু নিলাম না কেন? জানি, এতে কিছুই বদলাবে না! অর্থাৎ আপাতত পিছু হটেছি, ঠিক আছে। পরে ঠিক সুদে-আসলে বুঝিয়ে দেব!
শুক্রবার মোদির টার্গেট ছিল সেই মেয়েটি, যে সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে গালাগালি করেছে। যদিও এটা বললেন না, ছাত্রীটি পরে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিস্কার, ওই মেয়েটির মতোই বোধহয় সব আন্দোলনকারী। তাই বলছেন সভ্য সমাজে এসব চলে না। এই আন্দোলন সাংস্কৃতিক অধ:পতনের উদাহরণ! স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, আন্দোলনকারীরা যদি সভ্য সমাজের পক্ষে মানানসই না হয় তাহলে তাদের অন্দোলন মেরে-ধরে, গুলি করে বন্ধ করার সাহস দেখালেন না কেন? পুলিশের পাশবিক অত্যাচারের জেরে যন্তর-মন্তরে প্রতিদিন আন্দোলনকারীর সংখ্যা বেড়েছে। কেন বারবার আলোচনায় ডাকলেন? কেন শিক্ষামন্ত্রীকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করলেন? আসলে শিক্ষামন্ত্রী ইস্তফা দেওয়ার পর সংসদে যেভাবে তাকে বিজেপি সংবর্ধনা দিয়েছে, তাতে পরিস্কার বিজেপি আসলে প্রশ্ন ফাঁস কেলেঙ্কারীকে তাদের ব্যর্থতা কিংবা অপদার্থতা বলে মানতে রাজি নয়। দেশের শিক্ষাকে রসাতলে পাঠানোর পরেও সরকার এসব ঘটনাকে স্বাভাবিক বলছে।
দাঁতে জিভ কেটে রক্ত পড়লে আমরা কি দাঁত ভেঙ দিই না জিভ কেটে দিই? মোদি এই উদাহরণ তুলে বলছেন, দুটোকেই ঠিক রাখতে হবে। জেলে পুরে শাস্তি দিতে চাই না। মাফ করে দিতে চাই। কে কাকে মাফ করতে চায়? প্রশ্ন ফাঁসের পর সরকারের উচিত ছিল ছাত্র সমাজের কাছে মাফ চাওয়া। যে ২০জন পড়ুয়া আত্মহত্যা করেছে, তাদের বাবা-মার সামনে গিয়ে জোড় হাত করে মাফ চেয়ে নেওয়ার সামাজিক সভ্যতা দেখানো উচিত ছিল। সে সব দূর অস্ত। পরিবর্তে ক্ষমতার দম্ভ!
অন্দোলকারীদের বিপথগামী, পথভ্রষ্ট বলে উপমা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলছেন, এসো তোমরা তোমাদের ভুল থেকে শিক্ষা নাও। একবারও সরকার বা তাঁর ভুলের জন্য অনুশোচনা নেই! যে পড়ুয়াদের এতো উপেক্ষা, তারা কান ধরে বিজেপিকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে দেওয়ার পরেও একই ঔদ্ধত্য!
ইতিহাস পড়েনি মোদি-শাহরা। শিক্ষা নেওয়া তো দূরের কথা...
















