"এখানে তৃণমূল, বিজেপি কীসের। রাজনীতি করা মানে তো মানুষের পাশে দাঁড়ানো। যাঁরা আপনাকে জিতিয়েছে তাঁদের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব, কর্তব্য নেই?" মহারাষ্ট্রে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের (Migrant Workers) পাশে নিয়ে বিজেপিকে ধুয়ে দিলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
রাজনীতি মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো: গৌতম-অসিতকে সঙ্গে নিয়ে 'ফ্যাশন শোয়ের মাস্টার'-কে ধুয়ে দিলেন অভিষেক
Sponsored

মহারাষ্ট্রে কাজে গিয়ে বাংলায় কথা বলায় হেনস্থার শিকার দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনের বাসিন্দা অসিত সরকার ও স্থানীয় বিজেপির (BJP) প্রাক্তন বুথ সভাপতি গৌতম বর্মণ। তাঁদের ৩মাস জেলে থাকতে হয়। বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumder) কাছে গিয়েও মেলেনি সাহায্য। খবর পেয়ে পাশে দাঁড়ায় তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে বাড়ি ফেরেন তাঁরা। রণসংকল্প যাত্রায় গিয়ে বুধবার তপনে অসিত সরকারের (Asit Sarkar) বাড়ি গিয়ে দেখা করেন অভিষেক। সেখান সপরিবার হাজির ছিলেন গৌতম বর্মণও (Goutam Barman)। তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বিস্তারিত জানতে চান, কী হয়েছিল তাঁদের সঙ্গে। তৃণমূলের সেনাপতিকে নিগৃহীত পরিযায়ী শ্রমিক ও তাঁর পরিবার স্পষ্ট জানায়, বিজেপি নেতৃত্ব পাশে দাঁড়াননি। গৌতমের অভিযোগ, “মহারাষ্ট্রে আটক হওয়ার পরে আমরা ফোন করেছিলাম। কিন্তু বিজেপির কেউ ফোন ধরেননি। সাংসদ সুকান্ত মজুমদারও কোনওরকম সাহায্য করেননি।” মমতা-অভিষেকের জন্যেই ঘরে ফিরতে পেরেছেন তাঁরা।
বাড়ির বাইরে বেরিয়ে অসিত ও গৌতমকে পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি-কে ধুয়ে দেন অভিষেক। বলেন, "বাংলাদেশি তকমা দিয়ে মহারাষ্ট্রের জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের পরিবার স্থানীয় সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের কাছে গিয়েছিলেন। মহারাষ্ট্রে বিজেপি, কিন্তু সুকান্ত কিছু করেননি। আমরা জানতে পেরে কাঠখড় পুড়িয়ে ছাড়িয়ে এনেছি।"
অভিষেক (Abhishek Banerjee) বলেন, “সমস্যার কথা শুনলে আমি তাদের পাশে দাঁড়াবো না? গতকাল বীরভূমে গিয়েছিলাম। সোনালি খাতুনের সঙ্গে দেখা করেছি। তার অপরাধ শুধু বাংলায় কথা বলা। তাকে কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে মুক্তি দিতে হয়েছে। একইভাবে মুর্শিদাবাদের ছেলে জুয়েল রানাকে ওড়িশায় পিটিয়ে মারা হয়েছে। ছয় থেকে আট মাসে প্রায় ১২০০ অভিযোগ এসেছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।”
স্থানীয় সাংসদকে তীব্র আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, "এখানে তৃণমূল, বিজেপি কীসের। রাজনীতি করা মানে তো মানুষের পাশে দাঁড়ানো। যাঁরা আপনাকে জিতিয়েছে তাঁদের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব, কর্তব্য নেই?" 'ফ্যাশন শোয়ের মাস্টার', 'স্টপেজ মিনিস্টার' বলেও তীব্র খোঁচা দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। জানান, “বিভাজন, বৈষম্যের রাজনীতি করে বাংলা অশান্ত করা হচ্ছে। ৩০ লক্ষ মানুষের বাড়ির টাকা আটকে রাখা হয়েছে। সুকান্ত মজুমদার ফ্যাশন শোতে ব্যস্ত, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কোনও উদ্যোগ নেই।”
আরও খবর: মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের নাম বিকৃত উচ্চারণ, কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীকে কটাক্ষ কুণালের
পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিন রাজ্যে কাজে না যাওয়ার পারমর্শ দেন অভিষেক। আশ্বাস দেন, “এখানেই কাজের ব্যবস্থা করা হবে। রাজ্য ছেড়ে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে, তা মেনে নেওয়া যায় না।”
-
-
-
-
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













