Site Logo

আকাশপথে ভারতের নতুন উড়ান: বেসরকারি কারখানায় ‘এভারেস্ট জয়ী’ হেলিকপ্টার

EBBS Desk·
আকাশপথে ভারতের নতুন উড়ান: বেসরকারি কারখানায় ‘এভারেস্ট জয়ী’ হেলিকপ্টার

ভারতের প্রতিরক্ষা ও বিমান শিল্পে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এই প্রথমবার কোনো সরকারি সংস্থা নয়, বরং কর্নাটকের (Karnataka) ভেমাগালে সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগে দেশেই তৈরি হতে চলেছে এভারেস্ট জয়ী H125 (Helicopter)। এটি হয়ে উঠবে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ অভিযানে এক বিরাট মাইলফলক।

Sponsored

Sranchi In Article

উল্লেখ্য এখনও পর্যন্ত ভারতে হেলিকপ্টার তৈরির একচেটিয়া অধিকার ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোর। কিন্তু এবার কর্নাটকের (Karnataka) ভেমাগালে টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস এবং ফরাসি বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থা এয়ারবাসের যৌথ উদ্যোগে গড়ে উঠেছে অত্যাধুনিক ‘ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন’ (FAL)কারখানা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের (Defence Minister Rajnath Singh) হাত ধরে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে শুরুতে বছরে প্রায় ১০টি করে H125 হেলিকপ্টার তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো হেলিকপ্টারের প্রতিটি যন্ত্রাংশ জোড়া লাগানো থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পরীক্ষা— সবটাই হবে ভারতের মাটিতে।

ভেমাগালের এই কারখানায় (Vemagal helicopter factory) মূলত তৈরি হবে এয়ারবাসের বিখ্যাত H125 মডেলের হেলিকপ্টার (Everest-climbing H125 helicopters)। এটি সেই হেলিকপ্টার, যা পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের মাথায় অবতরণ করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। এর বিশেষত্ব হল, ১ জন পাইলট ও ৬ জন যাত্রী নিয়ে এটি ঘণ্টায় ২৫০ কিমি বেগে ছুটতে পারে। একবার জ্বালানি ভরলে এটি বেঙ্গালুরু থেকে হায়দরাবাদ পর্যন্ত (প্রায় ৬৬২ কিমি) অনায়াসেই পৌঁছে যাবে।

এই হেলিকপ্টারটি ‘হট অ্যান্ড হাই’(Hot and High) কন্ডিশনে ওড়ার জন্য বিশেষভাবে তৈরি। অর্থাৎ, প্রচণ্ড গরম বা অত্যাধিক উচ্চতা— কোনো কিছুই এর উড়ানে বাধা হতে পারবে না। পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজ, তীর্থযাত্রী বহন, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কিংবা পর্যটন— সব ক্ষেত্রেই এটি অত্যন্ত দক্ষ। এছাড়া শুধু সাধারণ মানুষের যাতায়াত নয়, দেশের সীমান্ত পাহাড়ায় সক্ষম হবে H125 হেলিকপ্টার ।

অন্যদিকে, এই কারখানায় তৈরি হবে সামরিক সংস্করণ H125M। রকেট, মিসাইল ও গানপড বহনে সক্ষম। শত্রুর রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য এতে বিশেষ ধরনের রঙ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। উন্নত ক্যামেরা ও ডিজিটাল ককপিট একে রাতের অন্ধকারেও লক্ষ্যভেদে সাহায্য করবে, যা বিশেষ করে হিমালয় সীমান্তে মোতায়েন সেনাদের শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

২০২৭ সালের শুরুতেই কারখানা থেকে প্রথম হেলিকপ্টারটি ওড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ২০ বছরে এখান থেকে অন্তত ৫০০টি হেলিকপ্টার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পের হাত ধরে হাজার হাজার দক্ষ যুবকের চাকরির সুযোগ তৈরি হবে এবং স্থানীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলো (MSME) বিশ্বমানের এয়ারোস্পেস নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
ভারতের এই নতুন কারখানাটি কেবল হেলিকপ্টার তৈরির কেন্দ্র নয়, বরং রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতির (MRO) হাব হিসেবেও কাজ করবে, যা ভারতের প্রতিরক্ষা অবস্থানকে আরও মজবুত করবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে প্রথম উড়ান হয় এই H125 হেলিকপ্টারটির এবং ১৯৯০ সালে সামরিক ক্ষেত্রে যুক্ত হয় H125M। বর্তমানে ফ্রান্স, ব্রাজিল, কাতার ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিশ্বের ৩৫টিরও বেশি দেশের সামরিক বাহিনীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এবার সেই তালিকার প্রথম সারিতে নাম লেখালো ভারত।

-

-

-

-

-

 

Sponsored

Merlin In Article

Sponsored

Shyam Sundar In Article

Sponsored

Camelia In Article

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from শিরোনাম

View All →