Site Logo

মৃতদেহের হাড়ে প্রাণ পেল রিজাউদ্দিনের পা! আরজি করের অসাধ্য সাধন

EBBS Desk·
মৃতদেহের হাড়ে প্রাণ পেল রিজাউদ্দিনের পা! আরজি করের অসাধ্য সাধন

লরি দুর্ঘটনায় উরুর হাড় প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল, চিকিৎসকরা ভেবেছিলেন পা হয়তো কেটেই বাদ দিতে হবে। কিন্তু হাল ছাড়েননি আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের (R. G Kar Medical College)চিকিৎসকরা। এক মৃত ব্যক্তির হাড় সংগ্রহ করে প্রথমবার এক যুবকের পায়ে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করলেন তাঁরা। এই বিরল অস্ত্রোপচারের হাত ধরে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন উত্তর ২৪ পরগনার(North 24 Pgs) বিড়ার (Bira)বাসিন্দা রিজাউদ্দিন মণ্ডল।

Sponsored

Sranchi In Article

বছর ৩১-এর শ্রমিক রিজাউদ্দিনের জীবন ওলটপালট হয়ে যায় ২০২৩ সালে একটি ভয়াবহ লরি দুর্ঘটনায়। তাঁর ডান পায়ের উরুর নীচের অংশ ডিস্টাল ফিমার (Distal Femur) এমনভাবে ভেঙে চুরমার হয়ে যায় যে হাড়ের বড় একটা অংশ পুরোপুরিভাবে ঘাটতি হয়ে যায় । স্থানীয় ভাষায় যাকে বলে ‘বোন লস’(Bone loss)।

২০২৩-এর মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত দফায় দফায় প্লাস্টিক সার্জারি (plastic surgery)ও হাড়ের অপারেশন করা হয়।
২০২৪ সালে তাঁর নিজের হাঁটুর প্যাটেলার হাড় (Kneecap) দিয়ে ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি।
চিকিৎসকদের সামনে তখন মাত্র দুটি পথ খোলা ছিল— হয় কয়েক লক্ষ টাকার কৃত্রিম জয়েন্ট টিউমার প্রোস্থেসিস (Tumor Prosthesis) বসানো, নয়তো সারাজীবনের মতো পা কেটে বাদ দেওয়া।

রিজাউদ্দিনের বয়স কম হওয়ায় চিকিৎসকরা চেয়েছিলেন যেভাবেই হোক তাঁর আসল হাঁটুটি বাঁচাতে। তখনই ঠিক হয় ' ক্যাডাভেরিক অ্যালোগ্রাফট' (Cadaveric allograft) বা মৃতদেহ থেকে সংগৃহীত তাজা হাড় বসানোর কথা। এই পদ্ধতি যেমন জটিল, তেমনই খরচসাপেক্ষ।

বিপজ্জনক এই পরিস্থিতিতে আরজি কর হাসপাতাল প্রশাসন, প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ করে হাড় সংগ্রহের ব্যবস্থা করে। এরপর আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে, রোগীর পায়ের সিটি স্ক্যান করে একটি থ্রিডি (3D) মডেল তৈরি করা হয়। সেই মাপ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংস্থা থেকে মৃতদেহের হাড় সংগ্রহ করা হয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, অর্থোপেডিক্স বিভাগের চিকিৎসকরা সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাড়টি প্রতিস্থাপন করেন।

আরজি কর হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স (Orthopedic ) বিভাগের দাবি, ডিস্টাল ফিমারের এই ধরনের 'অ্যালোগ্রাফট রিকনস্ট্রাকশন' এর আগে সফলভাবে কোথাও হয়নি। রিজাউদ্দিন এখন সুস্থ হওয়ার পথে। চিকিৎসকরা আশাবাদী, খুব শীঘ্রই তিনি নিজের পায়ে ভর দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

-

-

-

-

Sponsored

Merlin In Article

Sponsored

Shyam Sundar In Article

Sponsored

Camelia In Article

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from শিরোনাম

View All →