অযোধ্যার রাম মন্দিরের আর্থিক অনুদান তছরূপ মামলায় সোমবার শীর্ষ আদালতে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেবে সিট। অর্থাৎ মামলা কতদূর গড়ালো তা জানাবে বিশেষ তদন্তকারী দল। একই সঙ্গে, এই আর্থিক জালিয়াতির শিকড় কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে তা পুরোপুরি খতিয়ে দেখতে তদন্তের মেয়াদ আরও বাড়ানোর জন্য উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে আর্জি জানাতে পারেন সিটের আধিকারিকরা।

আরও পড়ুন: অর্ডার বাতিল, উল্টে ১,৪৫৭ টাকা ক্যান্সিলেশন ফি! কোন ফুড ডেলিভারি সংস্থার উপর চটলেন মহুয়া

দিন কয়েক আগেই সুপ্রিম কোর্টে রাম মন্দির ট্রাস্টের এই বিপুল আর্থিক তছরুপ মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত সাফ জানায়, তদন্ত কোন পথে এগোচ্ছে তা স্পষ্ট করতে সিট-কে দ্রুত স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে। আদালতের সেই নির্দেশের জেরেই সোমবার এই রিপোর্ট পেশ হতে চলেছে। গত জুন মাসে রাম মন্দির ট্রাস্টের তরফেই বিপুল পরিমাণ অনুদান ও অনুদানের চেকে নয়ছয়ের অভিযোগ করা হয়। এরপরই তৎপর হয়ে গত ১৩ জুন যোগী আদিত্যনাথের সরকার তিন সদস্যের এই উচ্চপর্যায়ের সিট (SIT) গঠন করে।

তারপর লখনউয়ের ডিভিশনাল কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্থের নেতৃত্বে গঠিত একটি বিশেষ দল গঠিত হয়। এই দলে রয়েছেন পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (IG) কিরণ এস এবং অর্থ দফতরের বিশেষ সচিব নীল রতন।

 ২৩ জুন সিটের দেওয়া ৯ পাতার প্রাথমিক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ মূল অভিযুক্ত-সহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করে। জালিয়াতি হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করে। এই কেলেঙ্কারির আঁচ এসে লাগায় শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দিতে বাধ্য হন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং অন্যতম ট্রাস্টি অনিল মিশ্র।

 

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে শুধুমাত্র তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে রিপোর্ট পেশ হচ্ছে এমন নয়। ভবিষ্যতে যাতে এমন বেনিয়ম রোখা যায়, তার জন্য বড়সড় পরিকাঠামোগত সংস্কারের সুপারিশ করতে চলেছে এই প্যানেল। বিশেষ করে মন্দিরের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ এবং অনুদান গণনার পদ্ধতিকে আরও বেশি স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার মতামতও দেওয়া হতে পারে। এদিকে, আগামী ২২ জুলাই অযোধ্যায় ট্রাস্টের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে সিটের প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা তথ্য নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ এবং ট্রাস্টের মর্যাদা ফেরাতে কী কী সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করবেন সদস্যরা।

অন্যদিকে, এই মামলাকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টে মামলাকারীদের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। আবেদনকারীদের আইনজীবী আদালতে প্রশ্ন তুলেছেন, পুলিশের খাতায় আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের করার আগেই কীভাবে সিট তদন্ত শুরু করে দিল? পুরো প্রক্রিয়াটি সন্দেহজনক বলে তাঁদের দাবি।

তাই সুপ্রিম কোর্টের কড়া নজরদারিতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পুরো আর্থিক কেলেঙ্কারির কিনারা করার পাশাপাশি মামলাকারীরা সিবিআই (CBI) তদন্ত, ঘটনার ফরেনসিক অডিট এবং দেশের সর্বোচ্চ অডিট সংস্থা ক্যাগ (CAG)-কে দিয়ে রাম মন্দির ট্রাস্টের যাবতীয় আয়-ব্যয়ের অডিট করানোর আর্জি জানিয়েছেন। আগামী সোমবার সুপ্রিম কোর্টে সিটের রিপোর্ট জমা পড়ার পর আদালত এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর দেশের রাজনৈতিক মহলের।