চাপ বাড়ল দিল্লি পুলিশের (Delhi Police)। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রশ্নফাঁসের বিরোধিতায় দিল্লির যন্তরমন্তরে (Jantar Mantar, Delhi) প্রতিবাদী অবস্থান ও সংসদ ভবন অভিযানে যেভাবে পড়ুয়াদের উপর দমন- পীড়ন নীতি প্রয়োগ করেছে দিল্লি পুলিশ, তাতে ক্ষুব্ধ শীর্ষ আদালত। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত (CJI Surya Kant) বলেন NEET আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না দিল্লি পুলিশ। FIR-র ভিত্তিতে তদন্ত চলতে পারে।যাঁদের পুরনো অপরাধের রেকর্ড রয়েছে তাঁদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ কার্যকরী হবে না। পাশাপাশি বলা হয়েছে ১৮ বছরের কম বয়সীদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। পাশাপাশি শীর্ষ আদালত (SC) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যে যে পুলিশ অতি সক্রিয়তা ও বর্বরতা দেখিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে তদন্তের আওতায় আনা হবে এবং অভিযুক্তদের জবাবদিহি করতে হবে।
গত ২০ জুলাই ছাত্রদের সংসদ অভিযান আটকাতে পুলিশ বৈদ্যুতিক লাঠি ব্যবহার করেছিল বলে মামলাকারীদের তরফ থেকে অভিযোগ উঠতেই প্রধান বিচারপতি জানান এই বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। সোমবারই শীর্ষ আদালত দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল। মঙ্গলবার শুনানি শুরু হতেই, প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলে, 'বিক্ষোভ চলাকালীন বিক্ষোভকারী এবং পুলিশ কর্মীদের আহত হওয়ার বিষয়ে তারাও উদ্বিগ্ন। এটি শুধু দিল্লির প্রশ্ন নয়, এটি সর্বভারতীয় বিষয়। এমনটা হতে পারে না যে একটি আন্দোলন হয়েছে এবং সেই কারণে লাঠিচার্জ করতে হবে। পাশাপাশি বিক্ষোভে হিংসার ঘটনাও কাম্য নয়।' মামলাকারীদের তরফে অভিযোগ করা হয় যে পুলিশের উর্দি ছাড়াও সাধারণ পোশাকে অনেকে ছিলেন যাঁরা পড়ুয়াদের । বিহারে বিক্ষোভকারীদের উপর একে-৪৭ রাইফেল ব্যবহারের বিষয়টিও উত্থাপন করা হয়। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধানে SIT গঠন করে তদন্তের আর্জি করেন মামলাকারীদের আইনজীবী।
দেশের শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি এদিন শুনানি চলাকালীন বলেন প্রথম দিকে আন্দোলন শান্তিপূর্ণই ছিল। পরবর্তীকালে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এর দুটো কারণ থাকতে পারে। এক, হয় পুলিশ অতিসক্রিয়তা দেখিয়েছে এবং দুই, হয়তো আন্দোলনকারীদের বাইরে থেকে উস্কানি দেওয়া হয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনীয়তাকে সমর্থন জানিয়ে CJI সূর্যকান্ত জানিয়েছেন,‘তদন্ত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হতে হবে। যে যে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। যদি দায় নির্ধারণ করা না গেলে তদন্ত অর্থহীন হয়ে পড়ে।'
















