রাজনীতির ময়দানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) ১০ গোল দিয়ে নাজেহাল করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মূলত অভিষেকের কারণেই শুভেন্দু তৃণমূল (TMC) ছেড়েছিলেন। তারপর অবিরাম তোপ দেগেছেন অভিষেকের বিরুদ্ধে। 'ভাইপো' বলে সম্বোধন করে একের পর এক আক্রমণ করেছেন। এখন শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী। দেখা যাচ্ছে তাঁর পরের পর চালে মাত হচ্ছেন অভিষেক।
নির্বাচনে অভিষেক ও আইপ্যাকের (I-PAC) কৌশল চৌপাট করে তৃণমূলকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছেন শুভেন্দু। দিল্লির সবরকম মদত আদায় করে এনেছেন তিনি। ভোটের পর তৃণমূলকে কার্যত ভেঙে দিয়েছেন একা শুভেন্দু। সাংসদ, বিধায়ক দুদিকেই সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাঙন। অভিষেকপন্থী বলে যাঁরা ছিলেন, তাঁদেরও নিজের আঙুলের ডগায় নাচাচ্ছেন শুভেন্দু। নিন্দুকেরা বলছেন, পুলিশ দিয়ে চাপের খেলায় গেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু রাজনীতির খেলায় শুভেন্দু কার্যত তৃণমূলের একসময়ের প্রতিটি চালকেই সুদে আসলে ফেরত দিচ্ছেন। তৃণমূলের সাংসদ, বিধায়কদের ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে যাচ্ছেন শুভেন্দু।
এছাড়া অভিষেককে মামলায় জেরবার করে দিচ্ছেন। ডায়মন্ডহারবার মডেলের সেবাশ্রয় শিবিরকেও কাঠগড়ায় তুলে দিয়েছেন। তৃণমূলের বিধানসভার সইকাণ্ডকে কৌশলে ব্যবহার করে অভিষেককে বারবার সিআইডির জেরার মুখে ফেলেছেন শুভেন্দু। তার সঙ্গে ইডি (ED), সিবিআই (CBI) এবং পুলিশের (Police) অন্য নানারকম মামলা তো আছেই। তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে তহবিল আটকে দিয়ে দলকে দমবন্ধ অবস্থায় ফেলেছেন। এখন লড়াইটা তৃণমূল বনাম তৃণমূল বানিয়ে নিজে মহানন্দে সরকার চালাচ্ছেন।
যেহেতু ভোটের আগে তৃণমূল দলটা কার্যত অভিষেকই চালাতেন, তাই এখন রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ, অভিষেককে পরপর গোল দিয়ে ব্যাকফুটে পাঠিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। বিদ্রোহী তৃণমূলিদের সবার মুখ দিয়ে অভিষেকের সমালোচনা করাচ্ছেন। বস্তুত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও চাপে। কিন্তু শুভেন্দুর স্টাইল অফ অপারেশনে মনে হচ্ছে পুরনো রাগ মেটাতে অভিষেককে গোলের মালা পরানোটা তাঁর নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিশ্চিতভাবেই আগ্রাসী শুভেন্দুর দাপটে প্রবল ব্যাকফুটে অভিষেক, ঘেরাটোপের বাইরে যেতে পারছেন না এখনও। দেখার বিষয়, অভিষেকের উপর চাপ আরও কতটা বাড়ান শুভেন্দু। অন্যদিকে আপাতত কোণঠাসা হলেও ঘুরে দাঁড়াতে অভিষেক কোনও পদক্ষেপ নিতে পারেন কি না। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোট জিতেও খেলা শেষ করতে চান না শুভেন্দু। তিনি জেদ নিয়ে কৌশলী পরপর পদক্ষেপে অভিষেককে টার্গেট করে তৃণমূলকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে নেমেছেন।
















