বাংলার মানুষের জল পাওয়ার অধিকারের উপর এবার নতুন করে করের বোঝা চাপানোর ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার (BJP Government)! জনপ্রতি প্রতিদিন জলের পরিমাপ বেঁধে দিয়ে ৫৫ লিটার করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনা মতো পশ্চিমবঙ্গের পরিসংখ্যান এ বছরে নাগরিকদের থেকে ৪৭৯ কোটি টাকা তোলার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র। অর্থাৎ এক কথায় বলতে গেলে, ‘জল জীবন মিশন’ (Jal Jeevan Mission) প্রকল্পকে হাতিয়ার করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার নতুন ষড়যন্ত্র রচনা করা হচ্ছে। 

কেন্দ্রের তরফ থেকে গোটা বিষয়টিকে মেইনটেনেন্স খরচ বলে চালানোর চেষ্টা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে পরিবার পিছু ৪০ থেকে ৮০ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। জল জীবন মিশনের নামে গ্রামে গ্রামে জল সংযোগ দেওয়ার পর, এবার সেই জলের ওপর চড়া হারে জলকর চাপানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যে প্রকল্পের ঢাক পিটিয়ে বিজেপি প্রচার চালায়, তার আসল উদ্দেশ্য যে আসলে সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি করের বোঝা চাপানো, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। একদিকে আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, পেট্রোল-ডিজেলের দামের ছ্যাঁকা, আর অন্যদিকে এখন মানুষের মুখে এক ফোঁটা জল দেওয়ার বিনিময়েও পকেট কাটার বন্দোবস্ত পাকা করছে মোদি সরকার। মধ্যবিত্ত থেকে প্রান্তিক শ্রেণি—অর্থ নেওয়ার পোশাকি নাম ‘অপারেশন অ্যান্ড মেন্টেনেন্স’। আবার এই ৪০ থেকে ৮০ টাকা বাড়ানোর ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছে মোদি সরকার।

সম্প্রতি সংসদে কেন্দ্রীয় জলশক্তিমন্ত্রী সি আর পাটিলের (CR Patil) ডাকা রাজ্যওয়াড়ি জনপ্রতিনিধিদের বৈঠকে আপত্তি জানান তৃণমূলের (TMC) উলুবেড়িয়ার সাংসদ সাজদা আহমেদ।বৈঠকে প্রশ্ন তোলেন সাজদা আহমেদ (Sajda Ahmed)। বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষেও কেন্দ্রের ৫ হাজার ৫০ কোটি টাকা দেওয়ার দায়িত্ব থাকলেও কেন দেওয়া হয়েছিল ২ হাজার ৫২৫ কোটি? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি কেন্দ্রীয় জলশক্তিমন্ত্রী সি আর পাতিল। পশ্চিমবঙ্গের পুর এলাকার বাইরে ১ কোটি ৭৫ লক্ষ ৫০ হাজার ৫৯৮ বাড়ি রয়েছে। তার মধ্যে ট্যাপ ওয়াটার সরবরাহ হয়েছে ৯৯ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬৫টি বাড়িতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্য সরকার ৩৯১ কোটি টাকা দিলেও মোদি সরকার এক পয়সাও দেয়নি। এখন নিজেদের পকেট ভরাতে কেন্দ্র সরকার ঠিক করেছে, রাজ্যের সঙ্গে সহযোগিতায় বাড়ি বাড়ি যাবে জল। কিন্তু সাধারণের জন্য এটা একটা অশনি সঙ্কেত। এখন থেকে জল ব্যবহার করলে দিতে হবে টাকা।