নতুন করে কাজের চাপে আত্মঘাতী বিএলও! আতঙ্কে মৃত্যু দুই ভোটারেরও

নিজেদের কাজের টার্গেট পূরণের জন্য ক্রমশ চাপ বাড়ানো হচ্ছে রাজ্যে সরকারি কর্মী বিএলওদের উপর। তার জেরে ক্রমশ মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে বিএলও-দের (BLO)। কেউ অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন, কেউ আত্মঘাতী হচ্ছেন। ফের একবার সেই রকম মর্মান্তিক পরিণতি এক মহিলা বিএলও-র। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের শুনানি (SIR hearing) সংক্রান্ত হয়রানিতে সাধারণ মানুষদের মৃত্যু মিছিল অব্যাহত। এবার মৃত্যু হল আরও দুই ভোটারের (voter)।
Sponsored

বানেশ্বরের পরে কোচবিহারের (Coochbihar) আরও এক বিএলও-র মৃত্যু হল। শুক্রবার সকালে কোচবিহারের পেস্টারঝার গ্রামের কাছে চলন্ত ট্রেনে কাটা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত মহিলার নাম মাধবী রায়। তিনি কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা এলাকার সুটকাবাড়ির একটি বুথের বিএলও হিসাবে কাজ করছিলেন ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক অভিযোগ করেন, কাজের চাপেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তিনি কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের সুটকবাড়ি অঞ্চলে ৪/১৫২ বুথের দায়িত্বে ছিলেন।
Sponsored

পরিবারের অভিযোগ, নতুন করে আরও চারশো জন ভোটারের হিয়ারিং (SIR hearing) বিষয়ক কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। নতুন করে এটা যে কত বড় চাপ সেটা কাজের সঙ্গে যুক্তরা জানেন। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করেন তাঁরা। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গুড়িয়াহাটি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মৃতের বাড়ির এলাকায় শোকের ছায়া।
Sponsored

অন্যদিকে শুনানির পরেও ভোটার তালিকায় নাম উঠছিল না। সেই দুশ্তিন্তায় উত্তর চব্বিশ পরগণার হাসনাবাদের (Hasnabad) ভেবিয়া এলাকায় মৃত্যু হল বছর ৩৮-এর যুবক ফিরোজ মোল্লার। ২০০২-এর ভোটার লিস্টের হার্ড কপিতে বাবা-মায়ের নাম আছে, কিন্তু অনলাইনে নেই। তা থেকেই দুশ্চিন্তায় মৃত্যু বলে অভিযোগ। কমিশন হিয়ারিংয়ে (SIR hearing) ডাকে ৩ জানুয়ারি। বাবা মোবাক মোল্লা ও মা জরিনা মোল্লার সঙ্গে নামের মিল হচ্ছিল না। তাই তাঁর নাম বাদ পড়ছিল। ফলে প্রচণ্ড দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। শুক্রবার তার জেরেই অসুস্থ হয়ে মারা যান, বলে অভিযোগ। স্থানীয় পঞ্চায়েতের প্রধান অলিউল মণ্ডল খবর পাওয়ামাত্রই পরিবারের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
Sponsored

Sponsored

অন্যদিকে এসআইআর শুনানিতে এসে মারা গেলেন বালি-জগাছা (Bally) ব্লকের বৃদ্ধ মদন ঘোষ। শুক্রবার দুপুরে বালি-জগাছা ব্লক অফিসের এসআইআর শুনানি কেন্দ্রেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, এদিন বেলা ১১টা নাগাদ শুনানিতে এসেছিলেন। কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেরক্স করে নিয়ে এসে লাইনে দাঁড়ানোর কয়েক মুহূর্ত পরেই মাথা ঘুরে পড়ে যান। তাঁকে কোনা গ্রামীণ হাসপাতাল, সেখান থেকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ছেলে দীপঙ্কর বলেন, এসআইআরের কারণে বাবা বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন। প্রায়ই বলতেন তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিতে পারে। এই ভয় এবং আতঙ্ক থেকে অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন। স্থানীয় বিধায়ক কল্যাণ ঘোষের অভিযোগ, ২০০২ সালের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়। এই মৃত্যুর জন্য পুরোপুরি দায়ী নির্বাচন কমিশন।
Sponsored

-
-
-
-
Related Articles

পারিবারিক বিবাদের মর্মান্তিক পরিণতি, নিউটাউনে একই পরিবারের মৃত তিন
8h ago

ককরোচদের উপর লাঠিচার্জের প্রতিবাদ করে আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা-অখিলেশ! মোদির বাসভবনের সামনে উত্তেজনা
8h ago

'প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনা' নিয়ে উপভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর
8h ago

সিকিমে নির্মীয়মাণ টানেলে ধস-গ্যাস বিস্ফোরণ! মৃতের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
8h ago

ক্যাথেড্রাল রোডমুখী জনস্রোত, মমতার পথেই জনতা
9h ago

ককরোচদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ! জবাব চাইতেই মোদির বাড়ির সামনে বিক্ষোভ রাহুল-প্রিয়াঙ্কাদের
9h ago
More from শিরোনাম
View All →
শহিদ স্মরণ সভাতেও কংগ্রেসের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে! পরিস্থিতি সামাল দিলেন অধীর
10h ago

অত্যাচারিত হলে যোগাযোগ করুন: নম্বর দিয়ে তৃণমূল কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা অভিষেকের
11h ago

সিম্বল কাড়বে, এত সাহস! একটা গদ্দারকেও দলে ফেরাব না: স্পষ্ট বার্তা তৃণমূল সুপ্রিমোর
12h ago

আজ কোথায় কত দাম পেট্রোল-ডিজেলের? দেখে নিন এক নজরে
12h ago

আমার কোনও ছুঁৎমার্গ নেই, দরকারে ককরোচদের কর্মসূচিতে যাব: বার্তা মমতার
12h ago
