লাক্স কোজির ডানকুনির প্রস্তাবিত কারখানা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে সরব হলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। শিল্প গড়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ছাড়পত্রগুলি সংস্থার হাতে রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। এই নিয়ে চলছে রাজনৈতিক তরজা। এই বিষয় নিয়ে কুণালকে আইনি নোটিশ পাঠানোর কথা বললে কারখানা বৈধ কি না তা নিয়ে ৭ প্রশ্ন তোলেন কুণাল।
১। কারখানা তৈরির জমি রূপান্তর বা জমি ব্যবহারের অনুমতিপত্র?
২। ডানকুনিতে নতুন কারখানার স্যাঙ্কশনড প্ল্যান আছে, না নেই?
৩। নির্মাণকাজ শুরু সংক্রান্ত অনুমতিপত্র কোথায়?
৪। দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সম্মতি ও অনুমোদন কোথায়? (যদি প্রযোজ্য)
৫। ফ্যাক্টরি করতে গেলে কিছু বিষয়ে লাইসেন্স দরকার হয়, সেটা কোথায়?(যদি প্রযোজ্য)
৬। মিউনিসিপ্যালিটি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের থেকে অনুমতিপত্র আছে না নেই? (যদি প্রযোজ্য)
৭। পরিবেশ দফতরের থেকে ওয়্যারহাউস থেকে শিল্প-কারখানা করার ছাড়পত্র মিলেছে কি? যদি মেলে তাহলে কোথায়?
আরও পড়ুন: মা উপার্জন করলেও সন্তানের ভরণপোষণের দায় এড়াতে পারবেন না বাবা: সুপ্রিম কোর্ট
কুণালের বক্তব্য, "আমাকে আইনি নোটিশ পাঠাবার কথা হচ্ছে, কোর্টেও কিন্তু এইগুলো আপনাদের জমা দিতে হবে। এর প্রত্যেক অথোরিটিকে আমি আরটিআই করে নোটিশ পাঠাচ্ছি। ব্যাক ডেটেড করে করার চেষ্টা করবেন না।"
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়েও সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি জানান কুণাল। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, পরে নানা শর্ত চাপিয়ে তা থেকে সরে আসা উচিত নয়। কুণালের দাবি, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মতো প্রকল্প প্রান্তিক মানুষের আর্থিক সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কথায়, "শর্ত চাপালে হবে কেন? মানুষকে আর্থিক সুরক্ষার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা রাখতে হবে।"
আরও পড়ুন: নিউমার্কেট অগ্নিকাণ্ডের জের! চিকিৎসা করাতে কলকাতা এসে বিপাকে বাংলাদেশিরা
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের উপর হামলার ঘটনা নিয়েও মুখ খোলেন কুণাল। তাঁর বক্তব্য, ছাত্রদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বাইরের লোক বা 'গুন্ডা' ঢুকিয়ে হামলা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ছাত্রদের বিষয়ে 'বড়দের' কথা বলা যদি অনুচিত হয়, তাহলে বাইরের লোক নিয়ে এসে ছাত্রদের উপর হামলা করা কীভাবে সমর্থনযোগ্য?
এদিন বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে অভিযোগ তোলেন, "বিজেপি তোলাবাজিকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে।" এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারির মন্তব্যের উল্লেখ করে কুণাল বলেন, তাঁদের নিজেদের দলের নেতাকেই বলতে হচ্ছে যে তাঁদের সরকারের তোলাবাজি তৃণমূলকে ছাপিয়ে গিয়েছে। বিজেপির শাসন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই এই মন্তব্য করেন তিনি।
















