সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাত দুপুরে হামলা চালিয়েছে গুন্ডাবাহিনী। সেই ঘটনার তদন্তে বড়ো ধরনের ধাক্কা খেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য গঠিত হয়েছিল তিন সদস্যের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি। এবার এই কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য শুভশঙ্কর সরকার। ফলে তদন্তের গতি আরও শ্লথ হয়ে যাবে। ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণ দেখিয়ে তিনি উপাচার্যকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা ইমেল মারফত জানিয়ে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে যাদবপুরে গুন্ডাগিরি- একের পর এক তিরে বিজেপিকে নিশানা কুণালের
গত ১৯ ও ২০ অগাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভাঙচুর, আগুন লাগানো, পড়ুয়াদের গালিগালাজের অভিযোগের ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল কর্তৃপক্ষ। এই তিন সদস্যের কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছিল শুভশঙ্কর সরকারকে। বাকি দুই সদস্য হিসেবে ছিলেন বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অরুণাশিস গোস্বামী এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি-র অধিকর্তা সৌমেন্দু চট্টোপাধ্যায়। তবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই শুভশঙ্কর জানিয়ে দেন যে, এই পদের দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, এই ধরনের তদন্ত দীর্ঘমেয়াদী হয়। পরিস্থিতি সামনাসামনি বিচার করে তদন্ত করা একজন ৭০ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকের পক্ষে এবং তাঁর ব্যক্তিগত ব্যস্ততার মাঝে বেশ কঠিন। এছাড়াও তাঁকে মাঝে মাঝে তাঁর ছেলের কাছে যেতে হয়। তাতে তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে। এদিন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে চিঠি পাঠিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন।
শুভশঙ্করকে কমিটির চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু থেকে আপত্তি তুলেছিল RSS-এর শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ। আগেও শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা দফতরে ইমেল পাঠানো হয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, এই ধরনের ঘটনায় হাইকোর্টের কোনো অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত হওয়া উচিত।
















