অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে যাদবপুরে রাতের অন্ধকারে গুন্ডাবাহিনীর হামলা নিয়ে একের পর এক তিরে রাজ্যের শাসকদলকে বিঁধলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে 'অন্নপূর্ণা যোজনা' প্রসঙ্গে কুণাল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কারা যোগ্য, আর কারা নন, তার বিচার করবে কে? সমস্ত মহিলারা কেন এই সুবিধা পাবেন না, তা নির্বাচনের আগে কেন স্পষ্ট করা হয়নি? মা-বোনেদের সঙ্গে এটি এক ধরনের রাজনৈতিক প্রতারণা।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধাপে ধাপে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প চালু করেছিলেন, অথচ বর্তমান বিজেপি সরকার সেই তৈরি প্রকল্পগুলোই নতুন নামে চালিয়ে কৃতিত্ব নিতে চাইছে।"

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি বিজেপির গুন্ডাবাহিনীর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, এই ঘটনার জেরে দেশজুড়ে বাংলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি আক্রমণ করে তৃণমূল বিধায়ক বলেন, "যে সরকার বড় বড় কথা বলে এবং গুন্ডা দমন আইন আনার কথা বলে, সেই সরকার এই ঘটনায় ন্যূনতম কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রীকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন শুভেন্দু অধিকারী। গুণ্ডারা কেন এখনো গ্রেফতার হচ্ছে না?" এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তেরও জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে বিজেপির অবস্থান এবং দলবদলু নেতাদের প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, "বিজেপি আজ কোথায়? তারা তো তৃণমূলের বাদপড়া চোর-গুন্ডা ও সুবিধাবাদী মানুষদের নিয়ে চলছে। তৃণমূলের শেষ দিকে যে রোগ দেখা দিয়েছিল, সেই একই রোগ এখন বর্ধিত আকারে তাদের মধ্যে শুরু হয়েছে। তবে যারা দলকে ভালোবেসে প্রকৃত অর্থে কাজ করে এসেছেন, তারা দলেই রয়েছেন।" রাসবিহারীতে তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুর এবং দখলের অভিযোগ তুলে কুণাল ঘোষ বলেন, "এভাবে ধীরে ধীরে বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল করছে বিজেপি। পুলিশ এসে বিজেপির এই গুণ্ডাবাহিনীকে সমর্থন করছে।" পাশাপাশি, বিজেপি এলাকায় তথাকথিত তোলাবাজদের  'প্রোটেকশন মানি' আদায় করছে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন কুণাল। তিনি সাফ জানান, "বাজারে লাগাতার চিনির দাম বাড়ার পেছনে কেন্দ্রীয় সরকারের চরম অপদার্থতাই দায়ী। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানোর জন্য তিনি কেন্দ্রকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এর পিছনে কেন্দ্রের গভীর ষড়যন্ত্র আছে। কোন কোম্পানি ইথানল তৈরি করছে? কোন নেতার ছেলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার।"