মাস দুয়েকের ব্যবধানে ফের কলকাতায় পা রাখলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। বুধবার দুপুরে একগুচ্ছ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি নিয়ে কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন তিনি। বিমানবন্দরে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় দেবী দুর্গার একটি ছবি। সেই উপহারে আপ্লুত তসলিমা জানান, কলকাতার দুর্গাপুজো তাঁর অত্যন্ত প্রিয়। এবার উৎসবের দিনগুলিতে কলকাতায় থাকতে না পারলেও আগামী বছর থেকে পুজোয় এই শহরেই কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। তবে দেবীপক্ষের আবহে কলকাতায় পা রেখেই বাংলাদেশে দুর্গাপুজো ঘিরে অশান্তি ও মূর্তি ভাঙচুরের মতো কার্যকলাপ নিয়ে সুর চড়িয়েছেন লেখিকা। ওপার বাংলার তারেক সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে উগ্রবাদী ও জেহাদি শক্তির বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশে পুজোয় মূর্তি ভাঙার ঘটনা প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তসলিমা বলেন, বাংলাদেশে এই ঘটনা দীর্ঘ দিন ধরেই ঘটে আসছে। আসলে উগ্রবাদী জেহাদিরাই এই ধরনের ঘটনা ঘটায়। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার যেভাবে জামাত-ই-ইসলামির মতো কট্টরপন্থীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাতে মৌলবাদী কার্যকলাপ আরও বাড়ছে। তাঁর বক্তব্য, সরকার যদি কড়া অবস্থান না নেয়, তবে এই প্রবণতা বন্ধ করা যাবে না। মৌলবাদীদের বাড়বাড়ন্ত রুখতে প্রশাসনকেই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
শহরে তসলিমার সাহিত্য প্রতিভাকে কেন্দ্র করে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার মহাজাতি সদনে ‘শিকল ভাঙার গল্প’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ‘দ্বিখণ্ডিত’-র লেখিকা। তাঁর নির্দেশনায় এবং খ্যাতনামা নৃত্যশিল্পী মৈত্রী পাহাড়ির নৃত্য পরিচালনায় তা মঞ্চস্থ হওয়ার কথা। ওই মঞ্চ থেকেই তাঁকে ‘উমা’ সম্মান প্রদান করা হবে। এর পর সল্টলেকের বিডি অডিটোরিয়ামে বই প্রকাশ এবং ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে একটি পত্রিকার উদ্বোধন সেরে তিনি দিল্লি ফিরে যাবেন। পুজো শুরুর মুখে শহরে এসেও উৎসবের দিনগুলিতে কলকাতায় না থাকতে পারার আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি।
এদিকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং পুজোয় হামলার ঘটনা নিয়ে তসলিমার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। দলের রাজ্য মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, বাঙালি সংস্কৃতি তার বহুমাত্রিকতা নিয়ে দুর্গাপুজো, কালীপুজোয় মেতে রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈনদের উপর লাগাতার অত্যাচার চলেছে। দেশভাগের সময়ের ৩২ শতাংশ হিন্দু জনসংখ্যা এখন নেমে এসেছে ৬ শতাংশে। বিতাড়িত হয়ে তাঁদের ভারতে চলে আসতে হয়েছে। সে দেশের সরকারের উচিত সংখ্যালঘুদের পূর্ণ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।















