ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বন্দিদের অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে টানা ৬৩ দিন অনশন করে শহীদ হয়েছিলেন বিপ্লবী যতীন দাস। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের অন্যতম এই গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সাক্ষী উত্তর কলকাতার পুরনো পাড়া সিকদারবাগান। সেখানকার ১ নং গনেন্দ্র মিত্র লেনে মামার বাড়িতেই জন্মগ্রহন করেছিলেন এই মহান বিপ্লবী। কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে সেই ইতিহাসই যেন এক চরম অবহেলার শিকার।

আরও পড়ুন: মৃত্যুশোককেও ছাপিয়ে গেল ক্ষোভ! ‘শয়তানের মৃত্যু’ বলে তীব্র কটাক্ষ তনুশ্রীর

বহু বছর আগে ‘সুতানুটি পরিষদ’-এর উদ্যোগে বিপ্লবী যতীন দাসের স্মৃতি ও সম্মান রক্ষার্থে তাঁর সেই জন্মভিটেতে একটি নামাঙ্কিত স্মারক ফলক লাগানো হয়েছিল। ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করার সময় পথচলতি বহু মানুষের চোখ পড়ত সেই ফলকের দিকে, যা মনে করিয়ে দিত দেশের জন্য এই বীর বিপ্লবীর আত্মত্যাগের কথা।

কিন্তু সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর ও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক দৃশ্য সামনে এসেছে। হঠাৎ দেখা যাচ্ছে যে বাড়িটি থেকে সেই ঐতিহাসিক ফলকটি সম্পূর্ণ উধাও! শুধু তাই নয়, ফলকটি যেখানে বসানো ছিল, সেখানে অত্যন্ত সযত্নে সিমেন্ট লেপে দেওয়া হয়েছে, যাতে বোঝাই না যায় সেখানে কোনো স্মারক ছিল।

আরও পড়ুন: দুষ্কৃতী হামলা নয়, বন্ধুর বাড়িতেই বন্দুকের গুলি! খড়্গপুরে স্কুলছাত্র জখমের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা এবং ইতিহাসপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের মতেই, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই চিহ্নটিকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। একটি জাতির কাছে এর চেয়ে বড় লজ্জার আর কিছু হতে পারে না।

আজকের যুবসমাজ যখন ইতিহাস থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে, তখন এই ধরনের স্মারকগুলিই অতীতকে বাঁচিয়ে রাখে। কিন্তু সেই চিহ্নগুলিকেই যদি এক এক করে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়, তবে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কী বার্তা দেব? এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করে দিল যে আমরা এক ‘আত্মবিস্মৃত জাতি’ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরছি।

আরও পড়ুন: নজরুল মঞ্চে 'জাগোবাংলা উৎসব সংখ্যা' অনুষ্ঠানের অনুমতি মেলেনি! ক্ষোভ প্রকাশ তৃণমূল সুপ্রিমোর

কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই ফলকটি সরিয়ে ফেলল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় প্রশাসন বা হেরিটেজ কমিটির কি এ বিষয়ে কোনো নজরদারি নেই? অবিলম্বে এই ঘটনার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং যতীন দাসের স্মৃতিবিজড়িত সেই ফলকটি সসম্মানে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছেন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিকেরা।