রহস্য রোমাঞ্চ গল্প মানেই সমসাময়িকতাকে বাস্তবের প্রেক্ষাপটে তুলে ধরে চিরকালীন হয়ে ওঠা ক্ষুরধার মস্তিষ্কের অবাধ বিচরণ পাঠক কিংবা দর্শক মনে। কখনও সত্যের অন্বেষণ কখনও আবার মগজাস্ত্রের যথার্থ প্রয়োগে বাঙালির কাছে বই বা বড়পর্দার গোয়েন্দারা বরাবরই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একের পর এক দশক বদলাতে বেড়েছে রহস্য সংখ্যা আর সমাধানের আধিক্য। এই শহরের অলিগলি থেকে রাজপথে জন্ম নেওয়া রোমাঞ্চ গল্পের মাঝেই এবার 'কলকাতায় শার্লক' আগমন ঘটতে চলেছে! যিনি এই বহু প্রতীক্ষিত ঘটনাকে চাক্ষুষ করার সুযোগ দিতে চলেছেন, তিনি হলেন পরিচালক অরিন্দম শীল (Arindam Sil)।

আরও পড়ুন: এবার ছোট পর্দায় মহাধামাকা! জি বাংলার মহালয়ায় সীতা রূপে ইশা সাহা
ব্যোমকেশ হোক বা শবর তাঁর গোয়েন্দা প্রীতি বাঙালি দর্শকের অজানা নয়। সাম্প্রতিককালে উপন্যাসের একমাত্র এবং অন্যতম মহিলা গোয়েন্দা মিতিন মাসিকে যেভাবে বড়পর্দায় তুলে ধরেছেন অরিন্দম, তার থেকেই রহস্য সমাধানে গোয়েন্দাদের প্রতি পরিচালকের অটুট নির্ভরতার কথা আর বলে বোঝাতে হয় না। তবে 'কর্পূর' পরিচালক এবার চেনা চরিত্র নয়, বরং নতুন এক গোয়েন্দাকে হাজির করতে চলেছেন দর্শকের কাছে। তাঁর কথায়, কলকাতার গোয়েন্দার অভাব কোনওদিনই ছিল না।কিন্তু এমন শার্লক কলকাতা আগে কখনও দেখেনি। হোমসের ভাবনাটাই যদি এসে পৌঁছয় আজকের কলকাতায়, তাহলে কী হতে পারে এই ভাবনা থেকেই নতুন সিনেমা তৈরি করার কাজে মন দিয়েছেন অরিন্দম। শার্লক বরাবরই এক নিখুঁত ভাবনার প্রতিফলন হিসেবে তাঁর কাছে ধরা দিয়েছে। অসাধারণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাসম্পন্ন এক ব্যক্তিত্ব যিনি আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্কহীন ঘটনাগুলোর মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে বের করে এমন সত্যের কাছে পৌঁছে যান যা হয়তো সাধারণ মানুষের কাছে চোখের সামনে থেকেও অদৃশ্য হয়ে থাকে। সেই সত্তাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন সংস্কৃতি ও সমকালীন পরিসরে তুলে ধরতেই এবার টলিপাড়ায় 'জ্যোতিষ্ক' নামের এক গোয়েন্দা চরিত্রকে নিয়ে আসছেন অরিন্দম।

'জ্যোতিষ্ক' অবশ্য শার্লক হোমস নয়। তবে তাঁর মধ্যে রয়েছে শার্লকের মতোই এক অনুসন্ধানী মানসিকতা। সে আজকের কলকাতায় থাকা এক সমকালীন বাঙালি যুবক, যাঁর হোমসের প্রতি এক অদ্ভুত আকর্ষণ আছে এবং যে অসম্ভব তীক্ষ্ণভাবে চারপাশের মানুষ ও ঘটনাকে পর্যবেক্ষণ করতে পারে।কখনও জেনেবুঝে, কখনও বা প্রায় অজান্তেই তাঁর বন্ধু শরণজিৎও ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়ে এই অদ্ভুত শার্লক-ওয়াটসন সমীকরণে। গোয়েন্দা গল্প হিসেবে শুরু হওয়া দৃশ্যপট সময়ের গতিশীলতায় তুলে ধরে এক বড় জগৎ আর অনেকগুলো রহস্যময় প্রশ্ন। অরিন্দম জানিয়েছেন, 'কলকাতায় শার্লক'-এর গল্প আজকের কলকাতা এবং হোমসের মিথের সঙ্গে যুক্ত এক অন্য সময় ও অন্য পরিসরের মধ্যে চলাচল করে। চিত্রনাট্যে একে অপরকে আলোকিত করে অতীত ও বর্তমান। যে ব্যবস্থার কাছে ন্যায় প্রাপ্তি চিরাকাঙ্খিত শুধু নয়, ন্যায্য দাবিও বলা যায়, সেই ব্যবস্থাই যদি ব্যর্থ হয় তখন রহস্য, অপরাধ আর সত্যি মিথ্যের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নগুলো বারবার একে অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে থাকে।


অরিন্দমের এই ছবিতে অভিনয় করছেন বিক্রম চট্টোপাধ্যায়, বনি সেনগুপ্ত, অরুণিমা ঘোষ, অণুজয়, তন্বী লাহা, অর্জুন চক্রবর্তী (সিনিয়র), শুভ্রজিৎ দত্ত, অম্বরীশ ভট্টাচার্য, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, অর্ণ মুখোপাধ্যায়-সহ বিশিষ্ট তারকারা। ছবিতে অভিনেতা হিসেবে ধরা দেবেন পরিচালক অরিন্দম নিজেও। তিনি অবশ্য ছবি দিয়ে এখনই খুব একটা কিছু ব্যাখ্যা করতে চান না। শার্লক-ওয়াটসনের সঙ্গে পরিচিত হয়ে ঠিক কোথায় কল্পনা আর বাস্তবের সীমারেখা মুছে ফেলার ইঙ্গিত ধরতে পারেন দর্শক, তা আপাতত সিনেমার জন্যই রেখে দিতে চান অরিন্দম। বিশ্বখ্যাত শার্লক শুধুই কি ইংরেজি সাহিত্য আর হলিউড সিনেমার নাকি সে অকপটে হয়ে উঠতে পারে কলকাতার একান্ত আপন, অচেনা 'জ্যোতিষ্ক' ছুঁয়ে যেতে পারে অনুসন্ধিৎসু বাঙালি মন, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।

















