বলিউডের অন্যতম চর্চিত ও বিতর্কিত অধ্যায় ছিল অভিনেতা রণবীর শৌরী এবং অভিনেত্রী পূজা ভাটের প্রেম ও তার তিক্ত সমাপ্তি। প্রায় দুই দশক আগের সেই পুরনো কাসুন্দি আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে পূজার ভাই রাহুল ভাটের এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে। সম্প্রতি সিদ্ধার্থ কান্নানকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে রাহুল স্বীকার করেছেন যে, বোন পূজার সম্পর্ক নিয়ে ঝামেলায় জড়ানো এবং রণবীর শৌরীর ওপর চড়াও হওয়া তাঁর জীবনের একটি বড় ভুল ছিল।
আরও পড়ুন: দুর্গাপুজোয় ভুয়ো পাসকাণ্ডে আবার হাজিরার নির্দেশ ইন্দ্রনীলকে
২০০০ সালের শুরুর দিকের ঘটনা। সে সময় রণবীর শৌরী ও পূজা ভাটের সম্পর্ক চরম তিক্ততার রূপ নেয়। রাহুল ভাট জানান, একদিন রণবীর ও পূজার মধ্যে তুমুল ঝগড়া বাঁধলে রণবীর নাকি পূজার গায়ে হাত তোলেন। বোনের এই অবস্থা দেখে রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে মাঝখানে জড়িয়ে পড়েন রাহুল। নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে তিনি রণবীরের গাড়ির কাচ ভাঙচুর করেন এবং তাঁকে মারাত্মকভাবে মারধর করেন, যার ফলে রণবীরের একটি পাঁজর ভেঙে যায়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অপরাধে সে সময় রাহুলকে গ্রেপ্তারও হতে হয়েছিল।
আরও পড়ুন: এবার ছোট পর্দায় মহাধামাকা! জি বাংলার মহালয়ায় সীতা রূপে ইশা সাহা
দীর্ঘ ২২ বছর পর সেই মারকুটে আচরণের জন্য স্পষ্ট অনুতপ্ত রাহুল। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “পূজার সম্পর্ক নিয়ে সেই ঝামেলায় জড়ানো আমার একদম উচিত হয়নি। আমি স্বীকার করছি, তখন আমার প্রতিক্রিয়াটা অনেক বেশি বাড়াবাড়ি ছিল। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে আমি মস্ত বড় ভুল করেছিলাম এবং তার মাশুলও আমাকে গুনতে হয়েছিল।”
আরও পড়ুন: বিচারকের পোশাক দেখে এজলাসে ‘জয় শ্রীরাম’! আদালতের মর্যাদা রক্ষায় সরব আইনজীবীরা
অতীতের ভুল স্বীকার করার পাশাপাশি রণবীর শৌরীর ব্যক্তিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন রাহুল। তিনি জানান, সাধারণত মানুষ এই ধরনের মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা ঝুলিয়ে রাখে কিংবা মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের চেষ্টা করে। কিন্তু রণবীর তা করেননি। আদালতের শুনানির সময় রণবীর অত্যন্ত ভদ্র আচরণ করেন এবং কোনরকম ক্ষোভ বা শত্রুতা না রেখে মামলাটি আপস করতে রাজি হন, যার ফলে রাহুলের বিরুদ্ধে থাকা এফআইআর খারিজ হয়ে যায়। রণবীরের এই উদারতার কারণে আজ তাঁর প্রতি রাহুলের মনে গভীর শ্রদ্ধা তৈরি হয়েছে।
একসময়ের হিংসাত্মক ও কলঙ্কিত এই বলিউড স্ক্যান্ডালটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে পরিণত রূপ নিয়েছে, রাহুলের এই অনুশোচনামূলক বক্তব্য যেন তারই প্রমাণ।
















