সকাল থেকে রাত শুধুই কাজের ব্যস্ততা, প্রত্যেকটা মুহূর্তে নিজেকে ভাঙা-গড়ার চেষ্টায় ব্যস্ত রাখা অভিনেতার কাছে বয়স যে একটা সংখ্যা মাত্র, তা আর নতুন করে বলার কিছু নেই। সেপ্টেম্বরের শেষ দিনে টলিউডের 'ইন্ডাস্ট্রি' ম্যানের জন্মদিন উপলক্ষে সকাল থেকে শুভেচ্ছার বন্যা। আজও একই রকমের উন্মাদনা, 'অটোগ্রাফ' নেওয়ার হুড়োহুড়ি, ৬৪তে পা দেওয়া 'মনের মানুষ'কে চোখের সামনে দেখলেই অনুরাগীদের আজও 'ছোট্ট জিজ্ঞাসা' তাঁর আগামির পরিকল্পনা নিয়ে। এত বছরে এতটুকু কমেন নিরন্তর নিজেকে একাধিক চরিত্রে আবিষ্কার করার তাগিদ। তাই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee) বাংলা বিনোদন জগতের শুধু এক মহাতারকা নন, তিনি টলিউডের বিনোদনের এক এবং অদ্বিতীয় স্তম্ভ।

বুধবার বিশ্বজিৎ পুত্রের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাঁর সতীর্থ থেকে সাধারণ মানুষ। দশকের পর দশক ইন্ডাস্ট্রির এত ভালবাসা পাওয়ার পরও আরও অনেক কাজ করার ইচ্ছে এতটুকু কমেনি প্রসেনজিতের। তবে বিভিন্ন রকমের চরিত্র করে ফেলায় এখন সহজ কাজে খুব একটা মাথা ঘামাতে চান না অভিনেতা। চান এমন কিছু চরিত্র যেখানে থাকবে কঠিন লড়াই। তবে ৬৪ বছর বয়সে পা দিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ বুম্বাদার। কেন? বড়পর্দার 'কাকাবাবু'র অকপদ স্বীকারোক্তি, "ভাঙাচোরারও তো একটা সীমা আছে। আর আলাদা কী করব, বুঝে উঠতে পারছি না।’’

সিনিয়র সিটিজেন হয়েও যেভাবে নিজেকে মেইন্টেন করেছেন প্রসেনজিৎ তা এই প্রজন্মের অভিনেতা দের কাছে হিংসে করার মতো। পদ্মশ্রী অভিনেতা এখন শুধুমাত্র নিজের কাজের কথা ভাবেন না, তার চিন্তাভাবনায় রয়েছে বাংলা সিনে জগতের উন্নতির ব্লু প্রিন্ট। টলিউডের 'ডাক্তার কাকু' এই বয়সে পৌঁছে সাধারণ প্রেমিক হয়ে থাকতে চান না, লক্ষ্য 'গডফাদার' হয়ে ওঠা। স্বপ্নের সেই চরিত্রের অফার এখনও আসেনি। তাই বাংলা সিনেমার 'অমরসঙ্গী' আজও নিজেকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করে চলেছেন। প্রতিমুহূর্তে চরিত্রের জন্য ভাঙছেন আবার নতুন রূপে গড়ে উঠছেন। আসলে তিনি যে 'প্রাক্তন' অভিনেতা নন, তিনি 'জাতিস্মর' অভিনেতা- যিনি বারবার নানা রূপে ধরা দেন দর্শকের কাছে, মনে করিয়ে দেন অভিনয় তাঁর নেশা বা পেশা নয় এটি তাঁর মজ্জাগত। কারণ তিনিই দ্য ইন্ডাস্ট্রি।

















