সোশ্যাল মিডিয়ায় দেবী দুর্গার প্রতিমার সঙ্গে ছবি পোস্ট করে চরম সাইবার বুলিং ও কদর্য আক্রমণের শিকার হলেন অভিনেত্রী সোহিনী গুহ রায়। দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে কুমোরটুলিতে প্রতিমা তৈরির আবহ চাক্ষুষ করতে গিয়ে তোলা একটি ছবি ফেসবুকে শেয়ার করার পর থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে।
আরও পড়ুন: আরশোলায় রক্ষে নেই, দোসর এ বার মাছি! সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়া দল গড়ে জোটের ডাক
ইদানীং পুজোর বেশ কিছুদিন আগে থেকেই বহু মানুষ মৃৎশিল্পীদের হাতের কাজ দেখতে এবং প্রতিমা তৈরির মুহূর্ত ফ্রেমবন্দি করতে কুমোরটুলিতে ভিড় জমান। সোহিনীও একইভাবে তিল তিল করে গড়ে ওঠা দেবী প্রতিমার সঙ্গে একটি সুন্দর ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন। পিছনে মাতৃ প্রতিমা। সামনে হলুদ শাড়ি পরে দাঁড়িয়ে তিনি। ক্যাপশনে লেখা "মা এসে গেছে।" যদিও মূর্তিতে রঙের প্রলেপ পড়েনি। আর তা নিয়েই তোলপাড় নেটপাড়া।
আরও পড়ুন: পুজোর কলকাতায় কাঞ্চন-শ্রীময়ীর ‘লিপ-লক’! ছবি পোস্ট হতেই ধেয়ে এল ‘দাদু-নাতনি’ খোঁচা
সেই ছবি আপলোড হতেই তা কিছুক্ষণের মধ্যে নেটদুনিয়ায় বিদ্যুতের গতিতে ভাইরাল হয়ে যায় এবং কমেন্ট বক্সে নেমে আসে মৌলবাদী ও কট্টরপন্থীদের কুরুচিকর মন্তব্যের বন্যা। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যুবকেরা কেউ লিখেছেন, ‘বারবার মা আসেন, বাবা আসে না কেন?’ কেউ আবার আরও একধাপ এগিয়ে লিখেছেন, ‘মা কি জামাকাপড় ছাড়াই চলে এসেছেন?’ কেউ আবার শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে লিখেছেন, ‘মায়ের কপালে একটা ব্রা-ও জোটেনি!’
আরও পড়ুন: শতকোটির মালকিন ‘বেবি ডল’! সানি লিওনের মোট সম্পত্তি ও আয়ের উৎস জানলে চোখ কপালে উঠবে
উগ্রপন্থী ও মৌলবাদী মানসিকতার বেশ কিছু নেটিজেন সনাতন ধর্মের আরাধ্য দেবী দুর্গাকে নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশালীন ভাষা প্রয়োগ করে। শুধু দেবী প্রতিমা নয়, ছবি পোস্ট করার অপরাধে ওই তরুণীকেও ছাড় দেওয়া হয়নি। তাঁর পোশাক, রুচি এবং ধর্মীয় ভাবাবেগকে উদ্দেশ্য করে একের পর এক কদর্য আক্রমণ ও ব্যক্তিগত হেনস্থা করা হয়।
আরও পড়ুন: ১২ দিনে ৫০০ কোটি! অজয়ের কেরিয়ারের প্রথম ‘মেগা ব্লকবাস্টার’ দৃশ্যম ৩
এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সাধারণ নেটিজেন থেকে শুরু করে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন বহু মানুষ তরুণীর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং এই ধরনের উগ্র মানসিকতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। মুক্তমনা নেটিজেনদের স্পষ্ট বক্তব্য, উৎসবের মরসুমে এই ধরনের কুরুচিকর সাইবার আক্রমণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে নেটপাড়ায় তুমুল বিতর্ক চলছে।















